চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় জানে আলম সিকদার (৩৪) নামের যুবদলের এক সাবেক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (তারিখ) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের নিজ বাড়ির সামনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতের খাবারের আগমুহূর্তে জানে আলম সিকদার তাঁর বাড়ির গেটসংলগ্ন উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে তিন যুবক সেখানে এসে থামে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের পেছনে বসা এক যুবক খুব কাছ থেকে জানে আলমকে লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলি বুকে লাগলে তিনি ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলার পরপরই মোটরসাইকেলযোগে দ্রুত পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
স্থানীয়রা গুলির শব্দ শুনে এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। তবে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান। পরে খবর পেয়ে রাউজান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেয়।
নিহত জানে আলম সিকদার রাউজান উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সদস্য ছিলেন। দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় রাজনৈতিক কয়েকটি ঘটনার পর তিনি বেশ কিছুদিন ধরে সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। তবে এলাকায় সামাজিকভাবে তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, জানে আলমের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। তাঁকে কেন লক্ষ্য করে হত্যা করা হলো, তা তারা বুঝতে পারছেন না। পরিবারের পক্ষ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
জানে আলম গিয়াস চৌধুরীর রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে রাউজান থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র শনাক্ত ও জড়িতদের পরিচয় বের করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।