রাজশাহী থেকে এসে তীর্থের মরদেহ উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ..

Sushanto Malakar avatar   
Sushanto Malakar
রাজশাহী থেকে এসে তীর্থের মরদেহ উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ..
রাজশাহী থেকে এসে তীর্থের মরদেহ উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ..
সুশান্ত মালাকার স্টাফ রিপোর্টারঃ- 

 

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

 

বগুড়ার সোনাতলায় বাঙালি নদীতে স্নান করতে নেমে তীর্থ সাহা (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার ৫ জুন বিকেলে নদীর স্রোতে তলিয়ে যাওয়ার পর রাতভর খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরের দিন শনিবার ৬ জুন ভোরে রাজশাহী থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত তীর্থ সাহা সোনাতলা পৌরসভার গড়ফতেপুর এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দীপক চন্দ্র সাহার ছেলে। তিনি পার্বতীপুরের খোলাহাটি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ শাখা থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৫ই জুন) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে তীর্থ সাহা তার মা তৃষা রানী, বোন মেঘা রানী সাহা, কাকিমা লক্ষ্মী রানী কর্মকার ও কাকাতো ভাই বিশাল কর্মকার সহ কয়েকজন স্বজনকে নিয়ে সোনাতলা সদর ইউনিয়নের আড়িয়াঘাট এলাকায় বাঙালি নদীতে স্নান করতে যান। দীর্ঘ সময় ধরে তারা নদীর বিভিন্ন স্থানে সাঁতার ও গোসল করছিলেন। একপর্যায়ে নদীর প্রবল স্রোত ও গভীর পানিতে পড়ে সবাই হাবুডুবু খেতে শুরু করেন। এ সময় নদীর তীরে পাটক্ষেতে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত ছিলেন স্থানীয় কৃষক মাইদুল ইসলাম ও ভুট্টা মিয়া। তারা ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনে দ্রুত নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রাণপণ চেষ্টায় তারা চারজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও তীর্থ সাহা পানির নিচে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন,পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীতে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালানো হলেও তীর্থের কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে শনিবার (৬ই জুন) ভোর ৫টার দিকে রাজশাহী থেকে বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী তল্লাশির পর সকাল ৭টার দিকে নদীর তলদেশ থেকে তীর্থ সাহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তীর্থের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আড়িয়াঘাট ব্রিজের দুই পাশে শত শত মানুষের ভিড় জমে যায়। পরে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শেষবারের মতো একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন অসংখ্য স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী।
সোনাতলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ একরামুল হক বলেন, প্রথমে আমাদের দল উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে রাজশাহী থেকে আসা ডুবুরি দল নদীর নিচে তল্লাশি চালিয়ে তীর্থ সাহার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন জানান, শুক্রবার বিকেলে একজন নদীতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। শনিবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।পরে তীর্থ সাহাকে আড়িয়াঘাট মহা শ্মশানে দাহ করা হয়। তীর্থ সাহার মৃত্যুতে এলাকা শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

No comments found


News Card Generator