নেত্রকোনার পূর্বধলায় নিজের ১৫ বছর বয়সী কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে পাষণ্ড পিতা শফিকুল ইসলামকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাবার লালসার শিকার হয়ে ওই কিশোরী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের ঘরুয়াকান্দা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার শফিকুল ইসলাম উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের ধলা যাত্রাবাড়ী পশ্চিমপাড়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীটি আগে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করত। পাঁচ মাস আগে সে বাড়িতে ফিরে আসে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে শফিকুল ইসলাম, তার মা ও ওই কিশোরী একসঙ্গে বসবাস করতেন। বাড়িতে আসার কয়েক দিন পর থেকেই শফিকুল ভয় দেখিয়ে মেয়েকে নিয়মিত ধর্ষণ করতে শুরু করেন। লোকলজ্জা ও ভয়ে বিষয়টি ওই কিশোরী কাউকে জানাতে পারেনি।
পরবর্তীতে প্রায় দুই মাস আগে কিশোরীটি ময়মনসিংহে এক নারী চিকিৎসকের বাসায় কাজে যোগ দেয়। সেখানে এক মাস কাজ করার পর কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে ওই চিকিৎসকের সন্দেহ হয়। পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম বাড়ি থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন।
খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনায় ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে। গতকাল বিকেলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘরুয়াকান্দা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কিশোরী নিজেই বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে মামলা রুজু করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শফিকুল তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষাসহ আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আসামিকে আজ বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।



















