বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৪ উপলক্ষে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্র ঘোষিত সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুর জেলা শাখায় বিশেষ বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পালিত হয়েছে। গত ৫ জুন থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ১১ জুন পর্যন্ত চলমান ছিল, যার মাধ্যমে জেলাজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ ও ফলজ গাছ রোপণ করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ফয়জুল ইসলাম, যিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃক্ষরোপণ করেন এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি নাগরিককে দায়বদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। মূলত পরিবেশ দূষণ রোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজনের মূল ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলাকালে সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন, যারা পিরোজপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, নির্বিচারে গাছ নিধনের ফলে পিরোজপুরের মতো উপকূলীয় জনপদগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়ছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে তারা কেবল গাছ রোপণই নয়, বরং রোপণকৃত চারাগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও জোর দিয়েছেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত বৃক্ষরোপণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে যেখানে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে যে, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে পরিবেশগত ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব হতো, যা বর্তমানে স্থানীয় জনগনের প্রধান চাহিদায় পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের এই উদ্যোগটি স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। ফয়জুল ইসলাম তার বক্তব্যে পরিবেশ রক্ষায় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণকে সময়ের দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পরিবেশ দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তর করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নিরুৎসাহিত করার কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও, পরিবেশবাদীরা মনে করেন যে, কেবল সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি নয়, বরং বছরের প্রতিটি দিন বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক সময় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিগুলো দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনতে ব্যর্থ হয়, তাই এই ধরনের উদ্যোগের পর সেগুলোর নিয়মিত তদারকি এবং স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের একমাত্র পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিশেষে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের এই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি কেবল পিরোজপুর জেলাতেই নয়, বরং সারা দেশে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের এই সময়ে বৃক্ষরোপণই হতে পারে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান প্রতিষেধক। স্থানীয় পর্যায়ের এই উদ্যোগগুলো যদি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে এবং সাধারণ মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষ সংরক্ষণে সচেতন হয়, তবেই ভবিষ্যতে একটি সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব হবে। পরিবহন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশগত উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।