পৌরসভায় ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়ার খেসারতসরুপ রক্ত দিল কালেক্টরেড স্কুল এন্ড কলেজের শিশু শিক্ষার্থী  অয়ন..

মুহাম্মাদ রাকিব avatar   
মুহাম্মাদ রাকিব
স্টাফ রিপোর্টার :

 পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। খোদ পৌর প্রশাসক  (উপ-সচিব) জনাব জুয়েল রানা  এর  দেওয়া নির্দেশনা তোয়াক্কা করছেন না তার অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমনকি পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের গেট ভেঙে ছাত্র আহতের ঘটনায় পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলী বিভাগের চরম গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে। সচেতন মহলের দাবি, একটি চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে পৌরসভাকে অনিয়মের কেন্দ্রে পরিণত করতে চাইছে।

গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন একটি গেট চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে তিন মাস পর সেই গেট ভেঙে শিক্ষার্থী অয়ন  আহত হওয়ার পর দায় এড়াতে মরিয়া কর্মকর্তারা।  পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম দাবি করেছেন, ঠিকাদার কাজ শেষে গেটটি তাদের নিকট হস্তান্তর করেনি। প্রশ্ন উঠেছে, হস্তান্তর না হওয়া একটি গেট কীভাবে তিন মাস ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় উন্মুক্ত থাকল? সাধারণ মানুষের অভিমত, জেলা প্রশাসকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এই ঘটনার তদন্ত কমিটি গঠন সম্ভব হয়েছে, অন্যথায় পৌরসভার কর্মকর্তারা এই দায়ও ধামাচাপা দিতেন। ইতিমধ্যে শিশু  শিক্ষার্থী অয়নের আহত হওয়ার পর তার চিকিৎসা সহ যাবতীয় কার্যক্রমসহ  তদারকি করছেন  জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। ঘটনা তদন্ত একজন সহকারী কমিশনার কে প্রধান করে কমিটি করে দিয়েছেন। 

পৌরসভা ভবনের অভ্যন্তরে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য টেরাকোটা স্থাপনে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কম মূল্যের ও নিম্নমানের ভাঙা টেরাকোটা ব্যবহারের বিষয়টি সংবাদকর্মীদের নজরে আসলে পৌর প্রশাসক মোঃ জুয়েল রানা নিজে কাজ পরিদর্শন করেন। তিনি অসঙ্গতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম,  প্রকৌশলী এইচ এম সোলায়মানকে ভাঙা অংশ তুলে পুনরায় কাজ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, প্রশাসকের নির্দেশ অমান্য করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাঙা টেরাকোটা দিয়েই কাজ সম্পন্ন করেছে।

এই অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী এইচ এম সোলায়মান গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে অকথ্য ভাষায় দুর্ব্যবহার করেন। বিষয়টি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি, উল্টো বিতর্কিত কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এমনকি প্রশাসকের পিএ-র বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি প্রশাসকের সামনে সব বিষয়ে সম্মতি দিলেও বাস্তবে কোনো নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন না। পশ্চিম কালিকাপুর এলাকার মশার উপদ্রব দমনে দেওয়া তাৎক্ষণিক নির্দেশনাও তিনি ফাইলবন্দি করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, গত ২১শে ফেব্রুয়ারি জাতীয় পতাকা রাতেও অর্ধনমিত অবস্থায় ঝুলতে দেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন কর্মচারীকে শোকজ করেছিলেন প্রশাসক। সাধারণ মানুষের ধারণা, প্রশাসকের স্বচ্ছতা ও কঠোর নিয়মাবলি অধীনস্থদের পছন্দ নয়। তাই তারা সম্মিলিতভাবে প্রশাসকের নির্দেশনা অগ্রাহ্য করে পৌরসভাকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করতে চাইছে।


পটুয়াখালী পোরবাসীর দাবি, অবিলম্বে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী যেন বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী প্রকৌশলী এবং প্রশাসকের পিএ সহ সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির আওতায় এনে পটুয়াখালী পৌরসভাকে একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আবেদন জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিকরা।

No comments found


News Card Generator