উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল সভার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। তিনি দুর্যোগকালীন সময়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় সিআরইএ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পাথরঘাটার প্রেক্ষাপট” শীর্ষক উপস্থাপনা তুলে ধরেন। উপস্থাপনায় ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, নিরাপদ পানির সংকট, জীবিকাগত সমস্যা এবং আশ্রয়কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো উঠে আসে। পরে নারগীস পারভিন মুক্তি সিআরইএ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সেবাসমূহ নিয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
মুক্ত আলোচনায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মহসিন হোসেন দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। এমসিএইচ-এফপি’র ডা. প্রিন্স কুমার রায় দুর্যোগকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সিপিপি টিম লিডার আরাফাত ছগীর বলেন, দুর্যোগের সময় প্রচারণা, জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং সাইক্লোন সেন্টার ব্যবস্থাপনায় সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রস্তুত রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিনাত জাহান বিদ্যালয়ভিত্তিক সাইক্লোন সেন্টারগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, হাইজিন ব্যবস্থা ও মাতৃদুগ্ধ কর্নার স্থাপনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। জিকা সভাপতি সফিকুল ইসলাম খোকন সাইক্লোন সেন্টারে যাওয়ার সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থার কথা তুলে ধরে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
চরদুয়ানী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন সাইক্লোন সেন্টারগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহার উপযোগী রাখার আশ্বাস দেন।
সভায় ইউএনও তাপস পাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
পরে সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শেষ হয়।



















