বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন ঘিরে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে ফেব্রুয়ারিতে ভোট আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। একইসাথে ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আবারও সরব হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানায়, জনগণের প্রত্যাশা ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটিই এখন সময়ের দাবি। এ প্রেক্ষাপটে তারা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে এবং এসব দাবির ভিত্তিতেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের শর্ত স্পষ্ট করেছে।
১৫ সেপ্টেম্বর সোমবার রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের দলের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। উভয় কক্ষেই প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা জরুরি। পাশাপাশি জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একতরফাভাবে নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে তা অন্যায় এবং গণতন্ত্রবিরোধী। তার মতে, কালো টাকা, পেশিশক্তি এবং ব্যাপক নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে পিআর পদ্ধতি চালুর বিকল্প নেই। তাহের বলেন, “আমরা নির্বাচনে অংশ নেব না—এমন কথা কখনো বলিনি। আমরা চাই, আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা হোক।”
নির্বাচন বিলম্বে জামায়াত জড়িত—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। বলা হচ্ছে তিনজন সচিব জামায়াতপন্থি, তাহলে বাকিদের পরিচয় কী? এসব বিভাজনমূলক বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এসব নোংরা খেলায় বিশ্বাস করি না।”
পিআর পদ্ধতিতে ভোট দেওয়া নিয়ে কোনো জটিলতা নেই বলেও তিনি দাবি করেন। বরং এ পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করলে সাধারণ মানুষের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ হবে। ডা. তাহের বলেন, “অন্য দলের দাবি যৌক্তিক হলে আমরা সেটিও মেনে নেব, আমাদের দাবি যৌক্তিক হলে সেটিও মানতে হবে। যুক্তিই নির্ধারণ করবে কোন দাবি গ্রহণযোগ্য।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। এখনো পাঁচ মাস সময় হাতে আছে, এর মধ্যে সব দাবি পূরণ সম্ভব। জনগণের অধিকার ও রাজনৈতিক সংস্কারের স্বার্থে যদি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ খুলে যাবে।
ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামায়াত আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বৃহত্তর বিক্ষোভ-সমাবেশ করবে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কর্মসূচি শুধু দাবির পক্ষে জনসমর্থন তৈরির উদ্দেশ্যেই নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জামায়াতের এই ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য বিরোধী শক্তির অবস্থানের পাশাপাশি জামায়াতের এই পাঁচ দফা দাবি আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণকে জটিল করে তুলতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন হলে ছোট ও মাঝারি দলগুলো সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে। তবে এটি কার্যকর করতে হলে ব্যাপক আইনি ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রয়োজন। এখন দেখা বাকি—জামায়াতের দাবিগুলো কতটা গুরুত্বের সাথে নেয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন।