নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সেও এই সংকটের কোনো সুরাহা হয়নি। বিসিবি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে অন্য কোনো দেশে আয়োজন করতে হবে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র ২৬ দিন। এই স্বল্প সময়ে ভেন্যু পরিবর্তন বা নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা কাটেনি।
আইসিসির অনুরোধ ও বিসিবির অবস্থান আইসিসির সঙ্গে মঙ্গলবারের বৈঠকে বিসিবির পক্ষে অংশ নেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম, দুই সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে আইসিসি জানায়, টুর্নামেন্টের সূচি যেহেতু চূড়ান্ত হয়ে গেছে, তাই বিসিবি যেন তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে।
তবে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, ‘‘নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি থাকায় ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিসিবি আবারও আইসিসিকে অনুরোধ জানিয়েছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতের বাইরে অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়ার জন্য।’’
বিসিবি আরও জানায়, খেলোয়াড় ও স্টাফদের নিরাপত্তা তাদের কাছে সবার আগে। তবে সংকট নিরসনে আইসিসির সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি তারা।
মোস্তাফিজ ইস্যু ও কূটনৈতিক তিক্ততা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার এই ক্রিকেটীয় দূরত্বের মূলে রয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন। বিশেষ করে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে কোনো কারণ ছাড়াই বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনা আগুনে ঘি ঢেলেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশেই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এর জেরে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করে তথ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সম্প্রতি জানান, আইসিসির নিরাপত্তা কমিটি মোস্তাফিজকে ছাড়াই ভারতে গিয়ে খেলার মতো কিছু শর্ত দিয়েছে, যা বিসিবির পক্ষে মেনে নেওয়া অসম্ভব।
সমাধান কোন পথে? সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির এবং মাহফজুর রহমান এ বিষয়ে কূটনৈতিক ও সম্মানজনক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘‘ভারতের দিক থেকে এমন কিছু কাজ করা হয়েছে, যার কারণে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। অতীতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেমন দুবাইতে হয়েছে, সম্মানজনক সমাধানের সুযোগ থাকলে নিরপেক্ষ ভেন্যুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।’’
অন্যদিকে সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান মনে করেন, কূটনৈতিকভাবে মনোমালিন্য জিইয়ে রাখা কারও জন্যই সুফল বয়ে আনে না।
আপাতত আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে ‘অনুরোধের আসর’ চললেও, শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ভাগ্য কোন দিকে গড়ায়, তা দেখার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।