নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার শালুয়াকান্দা এলাকায় অবস্থিত লাল মিয়া স্মৃতি গণপাঠাগারের সংগ্রহশালা সম্প্রতি এক বিশেষ অনুদানের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হয়েছে। বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও কবি স্বপনজয় চৌধুরী ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই পাঠাগারে বেশ কিছু দুর্লভ ও মূল্যবান বই উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পাঠাগারটি স্থানীয় পর্যায়ে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। কবি স্বপনজয় চৌধুরীর এই সময়োচিত ও সৃজনশীল উদ্যোগটি কেবল পাঠাগারের বইয়ের সংখ্যাই বৃদ্ধি করেনি, বরং দুর্গাপুর অঞ্চলের সাহিত্যপ্রেমী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। এই অনুদান প্রদানের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে মূলত পাঠাগারটির কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার বৃহত্তর লক্ষ্যকে সামনে রেখে, যেখানে সাহিত্যের প্রসার ও জ্ঞান বিতরণের বিষয়টিকেই প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
পাঠাগারের বর্তমান সংগ্রহ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যে, স্থানীয় পাঠকদের জন্য মানসম্মত বইয়ের অভাব দীর্ঘদিনের একটি সংকট ছিল। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের পাঠকদের কাছে আধুনিক ও ধ্রুপদী সাহিত্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ভুক্তভোগী পাঠকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই ভালো বইয়ের অভাবে তারা পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এই প্রেক্ষাপটে স্বপনজয় চৌধুরীর প্রেরিত বইগুলো পাঠকদের সেই অভাব পূরণে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। লাইব্রেরিয়ান মেহেদি হাসান ফাহিম জানিয়েছেন, কবির এই উদারতা কেবল উপহার হিসেবেই নয়, বরং একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত। তার মতে, একটি পাঠাগার কেবল বই রাখার স্থান নয়, বরং এটি একটি জনপদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের কেন্দ্রবিন্দু। কবির পাঠানো এই বইগুলো পাঠাগারের পাঠকদের মাঝে নতুন করে পড়ার আগ্রহ সঞ্চার করবে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে পাঠাগার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। লাইব্রেরিয়ান মেহেদি হাসান ফাহিম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, কবির এই মহৎ অবদান তরুণ প্রজন্মের পাঠকদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা। পাঠাগার কর্তৃপক্ষ কবির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে তার সাহিত্যজীবনের আরও সাফল্য প্রার্থনা করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিত্তবান ও গুণী ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে অনেক সময় নতুন গড়ে ওঠা পাঠাগারগুলো স্থবির হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে স্বপনজয় চৌধুরীর মতো সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণ স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলকে পাঠাগার উন্নয়নে আরও উদ্বুদ্ধ করবে। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে দুর্গাপুর অঞ্চলে একটি শক্তিশালী পাঠ-সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
পরিশেষে, লাল মিয়া স্মৃতি গণপাঠাগারে এই বইয়ের সংযোজন স্থানীয় শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি সমৃদ্ধ পাঠাগারই পারে সুস্থ ও সৃজনশীল সমাজ বিনির্মাণ করতে। কবির এই অবদান কেবল বর্তমান পাঠকদেরই নয়, বরং আগামী প্রজন্মের পাঠকদের জন্যও একটি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে। দুর্গাপুরের শালুয়াকান্দা এলাকায় এই পাঠাগারটি যেভাবে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে, তাতে কবির এই সহায়তা ভবিষ্যতে স্থানীয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।