খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার হরি নদীর ওপর নির্মিত শোলঘাতিয়া ব্রিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়েছে, যেখানে রাতের অন্ধকারে সক্রিয় হয়ে উঠছে একদল দুর্বৃত্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, মাদক কেনার অর্থ জোগাড়ের লক্ষ্যে একটি চক্র দীর্ঘ সময় ধরে ব্রিজের পথচারী চলাচলের অংশের ঢালাই হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ভেতরের লোহার রড খুলে নিয়ে যাচ্ছে। ২০১১ সালে শুরু হয়ে ২০১৫ সালে নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া এই সেতুটি খুলনা ও যশোর অঞ্চলের হাজারো মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অপরাধীদের অবাধ বিচরণে সেতুটির কাঠামোগত নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। রাতের নিস্তব্ধতায় সংঘটিত এই পরিকল্পিত চুরির ফলে সেতুর মূল কাঠামোতে যে ফাটল ও দুর্বলতা তৈরি হচ্ছে, তা যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবকেই এই ধরনের অপকর্মের প্রধান অনুঘটক হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে যারা প্রতিদিন জীবিকার প্রয়োজনে এই সেতুটি ব্যবহার করেন। মো. ইসরাফিল গাজী নামক এক স্থানীয় ভ্যানচালক জানিয়েছেন, মধ্যরাতের পর মুখোশধারী যুবকদের হাতুড়ি দিয়ে ব্রিজের অংশবিশেষ ভাঙার দৃশ্য তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন, যা প্রমাণ করে যে অপরাধীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। সাইদুল মোল্লা নামক অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, রড চুরির ফলে সেতুর পথচারী অংশটি যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। ভুক্তভোগীদের দাবি, মাদকাসক্ত যুবকদের এই চক্রটি নিয়মিতভাবে লোহার রড চুরি করে স্থানীয় ভাঙারি দোকানে বিক্রি করছে এবং প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে নেশার জোগান দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি কেবল সরকারি সম্পদের ক্ষতি করছে না, বরং পথচারীদের নিরাপত্তা ও নিত্যদিনের যাতায়াত ব্যবস্থাকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে স্পষ্ট যে, নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ব্রিজের নিরাপত্তা নিয়ে সৃষ্ট এই সংকটের বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ দারুল হুদা জানিয়েছেন যে, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন এবং এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, শোলঘাতিয়া ব্রিজের পথচারী চলাচলের অংশ থেকে রড চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর তা তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তবে স্থানীয়রা মনে করেন কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে ব্রিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় যদি এখনই এই চুরির চক্রকে দমন করা না যায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে সেতুটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়বে এবং এর ফলে দুই জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠবে।
শোলঘাতিয়া ব্রিজের আজকের এই দৈন্যদশা মূলত স্থানীয় পরিবহন অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তার একটি বড় ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। মাদকের করাল গ্রাস কীভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ এই ব্রিজটি। প্রশাসন যদি অবিলম্বে এই অশুভ চক্রকে আইনের আওতায় না আনে, তবে জননিরাপত্তার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করা কঠিন হবে। প্রতিদিন হাজারো মানুষের ভরসার এই সেতুটি রক্ষায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগই এখন সময়ের দাবি, যাতে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয় ঘটার আগেই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়।
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।