নিজস্ব প্রতিবেদক
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে প্রথমবারের মতো উদযাপিত হলো ১৮তম বার্ষিক ব্যাঙ সংরক্ষণ দিবস। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
জানা যায়, ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর ২৮ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী Save The Frogs Day পালিত হয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাকিনা স্টুডেন্টস ফোরাম (KSF)-এর উদ্যোগে এবং আন্তর্জাতিক সংগঠন SAVE THE FROGS এর সহযোগিতায় কাকিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল সচেতনতামূলক র্যালি, স্লাইড প্রেজেন্টেশন, পোস্টার প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম। অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়, যেখানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। পরে প্রেজেন্টেশন ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে ব্যাঙের জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক আবাসস্থল, পরিবেশে তাদের ভূমিকা এবং সংরক্ষণে করণীয় বিষয়গুলো সহজভাবে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীরা আগ্রহভরে এসব উপস্থাপনা উপভোগ করে এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেয়।
এছাড়া ড্রয়িং প্রতিযোগিতা ও ‘ব্যাঙ ঝাপ’ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের সঞ্চার করে। দিনশেষে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাকিনা মহিমা রঞ্জন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান, কাকিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
কাকিনা মহিমা রঞ্জন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “ব্যাঙ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্যশৃঙ্খল বজায় রাখতে এদের অবদান অপরিসীম। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক।”
অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী মো. আশিকুন নবী লিতু বলেন, “ব্যাঙসহ উভচর প্রাণী সংরক্ষণ আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গেই জড়িত। গ্রামীণ পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ বাড়ানো গেলে পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ আয়োজন স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।



















