লালমনিরহাট-বুড়িমারী রুটে অব্যবহৃত সাইডিং লাইন অপসারণের সিদ্ধান্ত..

Akm Kaysarul Alam avatar   
Akm Kaysarul Alam
এ কে এম কায়সারুল আলম, লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাট-বুড়িমারী সেকশনের বিভিন্ন স্টেশনে পড়ে থাকা অব্যবহৃত সাইডিং লাইন অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলীর অনুমোদনের পর এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজশাহীর প্রধান প্রকৌশলী (পশ্চিম) কার্যালয় থেকে লালমনিরহাটের বিভাগীয় প্রকৌশলীর কাছে এ সংক্রান্ত একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে জানানো হয়, লালমনিরহাট-বুড়িমারী সেকশনের চারটি স্টেশনের অব্যবহৃত সাইডিং লাইন থেকে মোট ১ হাজার ৮১৬টি স্টিল স্লিপার পর্যায়ক্রমে অপসারণ করা হবে। অপসারণের তালিকায় রয়েছে-আদিতমারী সাইডিং লাইন (২৯৩ ফুট) – ২৪১টি স্লিপার,তুষভাণ্ডার (ভোটমারী) সাইডিং লাইন (১,৪০২ ফুট) – ৫৩৩টি স্লিপার, হাতীবান্ধা সাইডিং লাইন (৪৫১ ফুট) –৩৩২টি স্লিপার,পাটগ্রাম সাইডিং লাইন (১,৬৪৯ ফুট) – ৭১০টি স্লিপার । সব মিলিয়ে ৩ হাজার ১২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের অব্যবহৃত রেললাইন থেকে এসব সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হবে।
ট্র্যাক সাপ্লাই অফিসার (পশ্চিম) মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তবে এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় জনগণ ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কাকিনা রেলওয়ে স্টেশনকে তালিকার বাইরে রাখা হলেও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের সাইডিং লাইন অপসারণকে অবিবেচনাপ্রসূত বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে মালবাহী ট্রেন চলাচল বাড়বে। তখন ক্রসিং, পণ্য খালাস ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় এসব সাইডিং লাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যোগাযোগ অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, “বিশ্বের অধিকাংশ দেশ রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। সেখানে বিদ্যমান ট্র্যাক তুলে ফেলা পশ্চাৎমুখী সিদ্ধান্ত। অব্যবহৃত আখ্যা দিয়ে লাইন অপসারণের বদলে আধুনিকায়নের মাধ্যমে যাত্রী ও মালবাহী ট্রেনের সক্ষমতা বাড়ানোই অধিক যুক্তিযুক্ত হতো।”

No comments found


News Card Generator