লাগামহীন অনলাইন বাজার: ভুয়া পণ্যের জোয়ার, দেখার যেন কেউ নেই..

Mohammad Monty avatar   
Mohammad Monty
লাগামহীন অনলাইন বাজার: ভুয়া পণ্যের জোয়ার, দেখার যেন কেউ নেই..
লাগামহীন অনলাইন বাজার: ভুয়া পণ্যের জোয়ার, দেখার যেন কেউ নেই..
লাগামহীন অনলাইন বাজার: ভুয়া পণ্যের জোয়ার, দেখার যেন কেউ নেই
​ডিজিটাল বাংলাদেশের জয়যাত্রায় অনলাইন কেনাকাটা এখন দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় যা ছিল কেবলই বিলাসী সুযোগ, তা আজ জীবনযাত্রার ..

লাগামহীন অনলাইন বাজার: ভুয়া পণ্যের জোয়ার, দেখার যেন কেউ নেই

​ডিজিটাল বাংলাদেশের জয়যাত্রায় অনলাইন কেনাকাটা এখন দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় যা ছিল কেবলই বিলাসী সুযোগ, তা আজ জীবনযাত্রার গতি বাড়িয়েছে। কিন্তু এই সুবিধাজনক বাজারের অন্ধকার দিকটি হলো—ভুয়া ও নকল পণ্যের অবাধ বিস্তার, যার কবলে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক পেজগুলিতে যেন নকলের মহোৎসব চলছে, আর তা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

​আস্থার সংকট: এক দামে দুই পণ্য

​অনলাইনে যা দেখানো হয়, হাতে পৌঁছায় তার সম্পূর্ণ বিপরীত—এমন অভিজ্ঞতা এখন আর নতুন নয়। নামী ব্র্যান্ডের লোগো ব্যবহার করে নিম্নমানের কসমেটিকস, ইলেকট্রনিকস বা পোশাক বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতারা আকৃষ্ট হন আকর্ষণীয় ছবি আর চটকদার অফারে। কিন্তু পণ্য হাতে পাওয়ার পর দেখা যায়, হয় সেটি নকল, নয়তো বিজ্ঞাপনে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে কোনো মিল নেই।

​বিশেষ করে, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-নির্ভর অনলাইন দোকানগুলো এই প্রতারণার ক্ষেত্রে অনেকটাই লাগামহীন। এখানে বিক্রেতার পরিচয়, ঠিকানা এবং পণ্যের মান যাচাইয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। অনেকে অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করে সম্পূর্ণ ভিন্ন বা ভাঙা পণ্য পেয়েছেন, আবার অনেকে টাকা দেওয়ার পর বিক্রেতার আইডি বা পেজ উধাও হয়ে গেছে। এভাবে ই-কমার্স খাতটিতে জন্ম নিয়েছে গভীর আস্থার সংকট

​আইনি সুরক্ষা, কিন্তু প্রয়োগে শিথিলতা

​নকল পণ্য বিক্রি বন্ধে বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১ এর মতো একাধিক আইন ও নীতিমালা রয়েছে। এই আইনে মিথ্যা বিজ্ঞাপন দেওয়া বা প্রতিশ্রুত পণ্য সরবরাহ না করার জন্য জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি (DBID) নিবন্ধন ছাড়া ব্যবসা করার ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রয়েছে।

​তবে বাস্তবতা হলো, এই আইনের প্রয়োগ সবক্ষেত্রে সমানভাবে হচ্ছে না। অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় অনেক ক্রেতাই প্রতারিত হয়েও আইনের আশ্রয় নিতে নিরুৎসাহিত হন। অন্যদিকে, হাজার হাজার নতুন অনলাইন দোকান প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে, যাদের ওপর নজরদারি করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কর্তৃপক্ষের হাতে নেই বললেই চলে। ফলস্বরূপ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে অনলাইন প্লাটফর্ম একটি ‘নিরাপদ ক্ষেত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

​সমাধান কোথায়?

​এই লাগামহীনতা বন্ধে প্রয়োজন কর্তৃপক্ষের জোরালো ভূমিকা ও ক্রেতা-সচেতনতা

​১. শক্তিশালী নজরদারি: অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলিকে অবশ্যই তাদের বিক্রেতার পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও পণ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যেমন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং BSTI (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন)-কে বাজারের ওপর আরও নিয়মিত ও প্রযুক্তি-নির্ভর নজরদারি বাড়াতে হবে।

​২. দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি: ক্রেতাদের অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করতে হবে। প্রতারিত ক্রেতাকে যেন সহজেই এবং অল্প সময়ে তার প্রতিকার পেতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আবশ্যক।

​৩. ক্রেতা সচেতনতা: ক্রেতাদেরকেও সচেতন হতে হবে। অতিরিক্ত কম দামে নামী ব্র্যান্ডের পণ্য কেনার লোভ ত্যাগ করতে হবে। পণ্য কেনার আগে বিক্রেতার রিভিউ, রিটার্ন নীতি এবং পেজের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

​অনলাইন ব্যবসা একটি বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। কিন্তু এই ভুয়া পণ্যের জোয়ার যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে ক্রেতারা আস্থা হারাবেন এবং এর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ক্ষতি অনিবার্য। তাই, এই সমস্যার সমাধানে সরকারি সংস্থা, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং ক্রেতা - সকলকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

​আপনার কি মনে হয়, অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা ঠেকাতে আরও কী কী নতুন পদ্ধতি নেওয়া যেতে পারে?

Комментариев нет


News Card Generator