কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল শামশুল উলুম আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাষ্টার জাকারিয়ার নামাজে জানাজা গত শুক্রবার সম্পন্ন হয়েছে। বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে তার শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু-বান্ধব, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাষ্টার জাকারিয়া হার্নিয়া রোগে ভুগছিলেন এবং চকরিয়া ট্রমা সেন্টারে তার একটি ভুল সার্জারি করা হয়। এর পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। গত ১৬ অক্টোবর বিকেলে বড়ঘোপ নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪২ বছর এবং তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
মাষ্টার জাকারিয়া কুতুবদিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে প্রিয় মুখ ছিলেন। তিনি উপজেলা স্কাউটের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বহু শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড় তৈরি করেছেন। সদাহাস্যজ্বল এই শিক্ষক তার জীবনের নানা স্মৃতি রেখে গেছেন মানুষের মনে। তার মৃত্যুতে কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, ক্রীড়াঙ্গন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেছেন।
জাকারিয়ার মৃত্যুতে শিক্ষাঙ্গনে একটি শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে যা পূরণ করা কঠিন। তার প্রস্থানে শিক্ষার্থীরা একজন আদর্শবান শিক্ষক ও মেন্টরকে হারিয়েছে। তিনি ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি শিক্ষার্থীদের শুধু পড়াশোনায় নয়, জীবনের বিভিন্ন দিকেও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
মাষ্টার জাকারিয়ার মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণা করে বলেছেন, 'তিনি শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, আমাদের জীবনের পথপ্রদর্শকও ছিলেন। তার মত একজন শিক্ষকের অভাব পূরণ করা অসম্ভব।'
মাষ্টার জাকারিয়ার মৃত্যুতে কুতুবদিয়ার শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং তার অবদান স্মরণে রেখে শিক্ষার্থীরা তার দেখানো পথে চলার প্রতিজ্ঞা করেছে। তার মানবিক গুণাবলী ও সেবামূলক কাজের জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
শিক্ষা ও ক্রীড়াঙ্গনে তার অমূল্য অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তার জীবন ও কর্ম থেকে সমাজ একটি শিক্ষা নিতে পারে যে, শুধু পেশাগত দক্ষতা নয়, মানবিক গুণাবলীও একজন ব্যক্তিকে সত্যিকার অর্থে মহৎ করে তোলে।