কেরানীগঞ্জ ও মোহাম্মদপুরে জ্যৈষ্ঠের খরতাপ: ওভেনের মতো জ্বলছে দুই জনপদ। - সালাউদ্দিন আকবর , মোহাম্মদপুর..

Salauddin Akbar avatar   
Salauddin Akbar
কেরানীগঞ্জ ও মোহাম্মদপুরে জ্যৈষ্ঠের খরতাপ: ওভেনের মতো জ্বলছে দুই জনপদ। - সালাউদ্দিন আকবর , মোহাম্মদপুর..
কেরানীগঞ্জ ও মোহাম্মদপুরে জ্যৈষ্ঠের খরতাপ: ওভেনের মতো জ্বলছে দুই জনপদ। - সালাউদ্দিন আকবর , মোহাম্মদপুর..
ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও মোহাম্মদপুর এলাকায় জ্যৈষ্ঠের খরতাপে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যেখানে ইট-পাথরের ঘনবসতি এবং গাছপালার অভাবে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেশি অনুভূত হচ্ছে।..

 

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এবং বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী কেরানীগঞ্জে তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে চলমান মাঝারি তাপপ্রবাহের প্রভাবে এ দুই এলাকায় দিনের তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের কারণে মানুষের কাছে তা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাটে গরমের তীব্রতা বেড়ে যায়। দুপুরের পর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

পরিবেশবিদদের মতে, মোহাম্মদপুর ও কেরানীগঞ্জে তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ নগর তাপদ্বীপ বা হিট আইল্যান্ড প্রভাব। বহুতল ভবন, কংক্রিটের অবকাঠামো এবং শিল্পকারখানার ছাদ দিনের বেলায় তাপ শোষণ করে রাতে তা পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়। ফলে রাতেও কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি মিলছে না।

এ ছাড়া পর্যাপ্ত গাছপালা ও জলাশয়ের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মোহাম্মদপুরের বসিলা ও আশপাশের আবাসিক এলাকা এবং কেরানীগঞ্জের জিনজিরা অঞ্চলে দ্রুত নগরায়ণের ফলে উন্মুক্ত সবুজ স্থান কমে গেছে। এতে প্রাকৃতিকভাবে পরিবেশ ঠান্ডা হওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

ঘনবসতি ও সংকীর্ণ সড়কের কারণে অনেক এলাকায় বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে দিনের বেলায় গরম বাতাস আটকে থেকে অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন রিকশাচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক, গার্মেন্টস কর্মী ও ডকইয়ার্ড শ্রমিকরা। জীবিকার তাগিদে তাদের অনেককেই প্রখর রোদে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা ও শারীরিক দুর্বলতাসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন তারা।

এদিকে প্রচণ্ড গরমের কারণে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, হিট স্ট্রোক এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গরমের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। মোহাম্মদপুরের টাউন হল, বসিলা এবং কেরানীগঞ্জের জিনজিরা বাজারে দুপুরের পর ক্রেতা সমাগম কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিক্রি কম হওয়ার অভিযোগ করছেন।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি সক্রিয় না হওয়া পর্যন্ত রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় এই অস্বস্তিকর আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম থাকলেও বৃষ্টিপাত শুরু হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

No comments found


News Card Generator