close

ভিডিও দেখুন, পয়েন্ট জিতুন!

কারাবাস, কলহ আর মামলার ফাঁদে নিঃস্ব হাফিজুর — সন্তান ফিরে পাওয়ার আকুতি..

এস এম তাজুল হাসান সাদ avatar   
এস এম তাজুল হাসান সাদ
****

কারাবাস, কলহ আর মামলার ফাঁদে নিঃস্ব হাফিজুর — সন্তান ফিরে পাওয়ার আকুতি

 

একসময় ছিল সাজানো সংসার—স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ঘিরে স্বপ্নে ভরা জীবন। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান আজ নিঃস্ব, নিঃসঙ্গ এবং সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়ে বেঁচে আছেন।

২০০৯ সালে একই গ্রামের মো. সিদ্দিকুল ইসলামের মেয়ে মৌসুমী আক্তার ময়নাকে বিয়ে করেন হাফিজুর। তাদের ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে জন্ম নেয়। ২০১৬ সাল পর্যন্ত সংসার ছিল মোটামুটি সুখেই। কিন্তু ২০১৭ সালে ঘটে অঘটন।

অভিযোগ অনুযায়ী, হাফিজুরের চাচা শ্বশুর ইলিয়াস এক নারী (ছদ্মনাম: শেফালী) সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সেই ঘটনায় দায়ের হওয়া অপহরণ মামলায় হঠাৎ করে হাফিজুরও আসামি হন। সাত মাসের বেশি সময় তাকে জেলে কাটাতে হয়।

কারামুক্তির পর হাফিজুরের সংসারে নেমে আসে অশান্তির ছায়া। তার দাবি, স্ত্রী ময়না প্রতিবেশী দুই বন্ধুর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বহু চেষ্টা করেও স্ত্রীকে ফেরানো সম্ভব হয়নি। উল্টো ২০১৯ সালে ময়না তার বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা দায়ের করেন।

কিছুদিন সংসারে ফিরে এলেও পুরনো অভ্যাসে ফিরতে সময় নেননি ময়না। একদিন ঝগড়ার সময় হাফিজুর স্ত্রীকে থাপ্পড় মারলে ময়না বাবার বাড়িতে চলে যান এবং তার পরিবার হাফিজুরের ওপর হামলা চালিয়ে ৪০ হাজার টাকা লুট করে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর পাল্টাপাল্টি মামলার সূত্রে জড়িয়ে পড়ে দুই পরিবার।

পরবর্তীতে ময়না একই গ্রামের আব্দুল মজিদ কারিগরের ছেলে আইয়ুব আলীর সঙ্গে নতুন সংসার শুরু করেন। তবে সন্তানদের রেখে গেছেন বাবার বাড়িতে এবং মামলার মাধ্যমে হাফিজুরকে হয়রানি অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাফিজুর বলেন, “আমি আর কিছু চাই না, শুধু আমার সন্তান দুটোকে ফেরত চাই। তাদের সঙ্গে থেকে স্বাভাবিকভাবে জীবন কাটাতে চাই। হয়রানিমূলক মামলা থেকে মুক্তি চাই।”

এ বিষয়ে চাচা শ্বশুর ইলিয়াস জানান, হাফিজুরের সন্দেহ থেকেই মূলত বিবাদের সূত্রপাত। যদিও ময়নার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পর্কের কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই। অভিযুক্ত প্রতিবেশীরাও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ময়নার বর্তমান স্বামী আইয়ুব আলী বলেন, “আমাদের সংসার চলছে প্রায় ৪-৫ মাস ধরে।”

এদিকে ময়নাকে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অনুরোধ করা হলে তিনি বলেন, “মামলা বিচারাধীন, আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলব না।”

স্থানীয় বাসিন্দা হাসান মোড়ল, ইসা শেখ ও জাহিদ ফকির বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে হাফিজুর মানসিক ও সামাজিকভাবে নির্যাতিত। স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করে তাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করে চলেছে। এখন সময় এসেছে পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের।”

স্থানীয়দের মতে, সমাজ ও প্রশাসনের মানবিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

Hiçbir yorum bulunamadı