দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দায়িত্ব পালনরত সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের ওপর যেন হঠাৎ নেমে এলো মৃত্যুর ঝড়। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্যাট্রোলিং গাড়িকে দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাসের সজোর ধাক্কায় দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও চারজন।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বিপরীতে ঢাকা অভিমুখী লেনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন জামাল হোসেন (৪০) ও মো. মাহফুজ মোল্লা (৪০)। তারা ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এনএইট এক্সপ্রেসওয়ের প্যাট্রোলিং টিম দিনের কাজ শেষে স্থান ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১৩-১১১১) নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে এসে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্যাট্রোলিং গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে ঘটনাস্থলেই জামাল হোসেনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মাহফুজ মোল্লাসহ অন্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহফুজও মৃত্যুর কাছে হার মানেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন একজন প্রকৌশলী, একজন চালক এবং দুইজন শ্রমিক। তাদের স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। হাসাড়া হাইওয়ে থানার এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে বাসচালক গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে ইউটিউব দেখছিলেন এবং কানে হেডফোন ব্যবহার করছিলেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন আল রশিদ বলেন, “দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
একটি অসতর্ক মুহূর্ত, একটি মোবাইল ফোন, আর কয়েক সেকেন্ডের বেপরোয়া চালনা কেড়ে নিল দুই শ্রমিকের জীবন। প্রশ্ন উঠেছে, মহাসড়কে যানবাহন চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আর কতটা জরুরি হলে এমন মৃত্যু থামবে?