ইউএনওর অভিযানে মুকসুদপুরে কথিত কবিরাজের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
মোঃ মামুন মোল্লা, মুকসুদপুর প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার লোহাইড় পশ্চিমপাড়া গ্রামের কথিত কবিরাজ বৃষ্টি আক্তারের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তার কার্যক্রম ও বিভিন্ন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বৃষ্টি আক্তার বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি ও পারিবারিক সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে অর্থ গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাড়ি বন্ধ দেওয়ার জন্য ২১০০ টাকা নেই এবং বাচ্চাদের চিকিৎসার জন্য ৩৫০ টাকা করে নেই।”
অনুসন্ধানে তার ব্যবহৃত কক্ষে কোরআন শরীফ, ত্রিশূল এবং বিভিন্ন পূজার সামগ্রী দেখা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৃষ্টি আক্তার দাবি করেন, “কালী, মহাদেব ও জিন আমার সঙ্গে কথা বলে।” তিনি আরও বলেন, “হিন্দুধর্মও আল্লাহর সৃষ্টি, তাই কোরআন শরীফের পাশে ত্রিশূল ও পূজার সামগ্রী রাখা যায়।”
তার এসব বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে সংবাদ সংগ্রহের সময় বৃষ্টি আক্তারের স্বামী আরমান মোল্লা সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের দাবি, সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি উত্তেজনাপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টি আক্তারের শ্বশুর কিবরিয়া মোল্লা। তাদের বাড়ি মুকসুদপুর উপজেলার লোহাইড় পশ্চিমপাড়া এলাকায়।
ঘটনার পর ৫ জুন সকাল ১১ টায় মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশিক কবির এবং মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে বৃষ্টি আক্তারের কথিত কবিরাজি চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়রা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিঃদ্রঃ প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগ, বক্তব্য ও তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, স্থানীয় সূত্র এবং সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্ত বা আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।