হরিপুর সীমান্তে ১১ জনের 'পুশইন' চেষ্টা নস্যাৎ করলো ৪২ বিজিবি, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
মোঃ আসাদুজ্জামান, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কঠোর ও পেশাদার অবস্থানের কারণে ১১ জন মানুষকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশইনের একটি বড় প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৪২ বিজিবি দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
আজ শনিবার (০৬ জুন ২০২৬) ভোর আনুমানিক ০৩:৩০ ঘটিকায় হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৩৪৯/৭-এস সীমান্ত পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
জিরো লাইনে আটকা ১১ জন
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের বহরগাঁও বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী এবং ৪ জন শিশুসহ মোট ১১ জন মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি টের পেয়ে মশালগাঁও বিওপির একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং কঠোর অবস্থান নেয়। বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বিএসএফের পুশইনের শিকার হওয়া ওই ব্যক্তিরা সীমান্ত রেখার শূন্য লাইন (জিরো লাইন) থেকে প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।
স্থানীয়দের সহায়তায় দূর থেকে করা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তিরা জানান, তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম এলাকার বাসিন্দা। গত ২৬ মে ২০২৬ তারিখে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আটক করে হাকিমপুর সীমান্ত এলাকার একটি নির্দিষ্ট স্থানে হেফাজতে রাখে। সেখানে আগে থেকেই আরও প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মানুষ বন্দি অবস্থায় ছিলেন।
তারা আরও জানান, সেখানে সাত দিন রাখার পর তাদের বিভিন্ন দলে ভাগ করে ভিন্ন ভিন্ন সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। সর্বশেষ এই ১১ জনকে পুলিশের গাড়িতে করে ৮৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বহরগাঁও ক্যাম্পে আনা হয় এবং একদিন রাখার পর আজ ভোরে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এই ঘটনার পর সীমান্তে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবির তরফ থেকে বাড়তি জনবল মোতায়েন এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফ-বিজিবির মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক চলমান রয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।”
অবৈধ পুশইন ও অনুপ্রবেশ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করতে গণমাধ্যম, স্থানীয় প্রশাসন এবং সীমান্ত এলাকার সর্বস্তরের জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে ৪২ বিজিবি কর্তৃপক্ষ।