দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে জনবান্ধব ও কল্যাণমুখী করার লক্ষ্যে একটি নীতি-নির্ধারণী গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে প্রধান অতিথি ও বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। রাজধানী ঢাকার একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এই বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কীভাবে একটি বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যবিমোচনমুখী এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণকারী জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা যায়, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা তৈরি করা এবং সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
গোলটেবিল বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের বাস্তব ভোগান্তির চিত্র অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ক্রমহ্রাসমান হারের কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির ওপর যে চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। বৈঠকে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, প্রচলিত বাজেটগুলোতে প্রায়শই সাধারণ করদাতাদের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়, অথচ বড় বড় খেলাপি ঋণগ্রহীতা ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ আজ চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের অবহেলিত এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি প্রকৃত কল্যাণমুখী বাজেট তখনই সম্ভব, যখন কর ব্যবস্থার সংস্কার করে ধনীদের ওপর উচ্চ কর এবং দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও জোরদার করা হবে। অংশগ্রহণকারীরা করের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধে কঠোর আইনি কাঠামোর দাবি জানান।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগামী বাজেটের জন্য একটি বিকল্প খসড়া প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। দলটির নীতিনির্ধারকেরা দাবি করেন,