আন্তর্জাতিক চাপ এবং যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান ও স্থল হামলা অব্যাহত রয়েছে। আজ ভোর থেকে চালানো একাধিক হামলায় অন্তত ৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে। গাজা শহরের স্কুলগুলোতে, যেখানে বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল, সেখানে ইসরায়েলি বাহিনী গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে তাঁবুতে আগুন ধরে যায় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেই, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই সংকট মোকাবেলায় নিজেদের ভূমিকাকে একটি ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে স্বীকার করেছে, যা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, গাজা যুদ্ধে ইউরোপের প্রতিক্রিয়া ছিল একটি ‘ব্যর্থতা’ এবং এটি বিশ্বমঞ্চে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করার ঝুঁকি তৈরি করেছে। তার এই বক্তব্যের পর বেলজিয়াম ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ এবং ইসরায়েল থেকে পণ্য ও সেবা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা দিয়েছে, যা ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করে জানিয়েছে, এটি সানায় ইসরায়েলি হামলার জবাবে করা হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় একটি শিশুসহ ছয়জন ‘দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে’ মারা গেছে, যা উপত্যকার ভয়াবহ খাদ্য সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। যুদ্ধের কারণে বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়া সাধারণ মানুষ এখন ক্লান্ত এবং দিশেহারা। ইসরায়েলের ঘোষিত তথাকথিত ‘নিরাপদ অঞ্চলগুলোতেও’ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, ফলে তাদের যাওয়ার মতো নিরাপদ কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই। গাজা শহর থেকে পালিয়ে আসার খরচও আকাশছোঁয়া; একটি পরিবারকে শুধুমাত্র পরিবহনের জন্য প্রায় ৭০০ ডলার এবং একটি তাঁবুর জন্য ১,০০০ ডলার পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও যুদ্ধবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। শত শত বিক্ষোভকারী তেল আবিবে জড়ো হয়ে যুদ্ধ বন্ধ এবং গাজা থেকে জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। একজন ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, অনেক ইসরায়েলিই এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, তাদের সরকার একটি ‘স্বৈরাচারী শাসনে’ পরিণত হচ্ছে এবং এমনকি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠজনেরাও এই যুদ্ধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
গাজায় মৃতের সংখ্যা এখন ৬৩,৭৪৬ ছাড়িয়ে গেছে এবং আহতের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬১ হাজারেরও বেশি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার এবং কিছু ইউরোপীয় দেশের নিষেধাজ্ঞা আরোপ সত্ত্বেও, ইসরায়েলি হামলা ও মানবিক সংকট তীব্রতর হওয়ায় গাজার ভবিষ্যৎ এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।