তিনি বলেন, “ইসরায়েলের সঙ্গে আমরা বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ করেছি। তুরস্কের কোনো জাহাজকে ইসরায়েলি বন্দরে যাওয়ার অনুমতি দিই না। একইভাবে আমাদের আকাশসীমায় তাদের বিমান প্রবেশ করতে দিই না।”
এর আগেই, ২০২৪ সালের মে মাসে তুরস্ক সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য স্থগিত করে। আঙ্কারা সে সময় গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা প্রবেশের শর্ত দিয়েছিল। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার।
সম্প্রতি স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের সঙ্গে সামুদ্রিক যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছে তুরস্ক। যদিও সরকারিভাবে তখন এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলের কোনো জাহাজকে তুরস্কের বন্দরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং তুর্কি পতাকাবাহী জাহাজকেও ইসরায়েলে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলি হামলার পর থেকে তুরস্ক প্রকাশ্যে তেলআবিবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান একাধিকবার ইসরায়েলি আগ্রাসনকে “গণহত্যা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এছাড়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে তিনি হিটলার ও নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ইসরায়েল-তুরস্ক সম্পর্ক এক দশকেরও বেশি সময় ধরে টানাপোড়েনে রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, গাজায় সামরিক অভিযান ও মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বে তুরস্কের ভূমিকা এসব বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করবে এবং আঞ্চলিক জোট ও বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)