ফরিদপুরে ক্যারাম খেলা নিয়ে দুপক্ষের সং'ঘ'র্ষ, আ'হ'ত ১৫, ভা'ঙচু'র চারটি বসতবাড়িতে..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ফরিদপুরে ক্যারাম খেলা নিয়ে দুপক্ষের সং'ঘ'র্ষ, আ'হ'ত ১৫, ভা'ঙচু'র চারটি বসতবাড়িতে..
ফরিদপুরে ক্যারাম খেলা নিয়ে দুপক্ষের সং'ঘ'র্ষ, আ'হ'ত ১৫, ভা'ঙচু'র চারটি বসতবাড়িতে..
ফরিদপুরের সালথায় সামান্য ক্যারাম খেলার বিরোধ দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জন্ম দিয়েছে। সংঘর্ষে ১৫ জন আহত ও কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর হয়েছে।....

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় সামান্য ক্যারাম খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার সকালে রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামে এই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে শান্তি বজায় রাখার ব্যবস্থা করে।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ভয়াবহ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল দুই থেকে তিন দিন আগে একটি তুচ্ছ বিরোধ থেকে। রামকান্তপুর গ্রামের একটি স্থানীয় বাজারে ক্যারাম খেলা নিয়ে স্থানীয় ওসমান তালুকদারের সমর্থক রাকিব নামের এক তরুণের সঙ্গে প্রতিপক্ষের কুদ্দুস তালুকদারের সমর্থক লাইফ নামের আরেক তরুণের প্রথমে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল।

প্রথম দফা মারামারির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিল। সে সময় পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ক্যারামবোর্ডটি থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। তবে এই পদক্ষেপ সাময়িকভাবে উত্তেজনা প্রশমিত করলেও, দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যেকার মূল বিরোধটি নিষ্পত্তি হয়নি।

সেই পুরোনো বিরোধের জের ধরেই সোমবার সকালে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে পুনরায় কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুতই হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অল্প সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে মারাত্মক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এই সংঘাত প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষই ক্ষুব্ধ হয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে তারা চারটি বসতবাড়িতে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে করে এলাকায় এক ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের ফলে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের বিস্তারিত পরিচয় বা তাদের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানা যায়নি।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে সতর্ক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে এবং পুলিশের কঠোর নজরদারি চলমান আছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষে জড়িত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গ্রামীণ সমাজে সামান্য তুচ্ছ বিষয় নিয়েও দ্রুত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার এই প্রবণতা সামাজিক সহনশীলতার অভাবকে তুলে ধরে। ক্যারাম খেলার মতো একটি বিনোদনমূলক বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই সংঘাত প্রমাণ করে যে, ছোটখাটো সামাজিক বিরোধগুলো সঠিকভাবে মীমাংসা না হলে তা বড় ধরনের অপরাধ ও সম্পদ ধ্বংসের কারণ হতে পারে।

যদিও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে, তবুও আইনি প্রক্রিয়া স্থবির থাকার কারণে স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, যা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করে।

স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং তুচ্ছ ঘটনায় সহিংসতা এড়াতে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যাবশ্যক।

Walang nakitang komento


News Card Generator