নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানিয়েছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতির বন্ধনে একসাথে শারদীয় দুর্গা পূজা উদযাপনই বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাস্তব রূপ। শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে এবারের দুর্গা পূজা জেলায় উদযাপিত হচ্ছে। জেলার ২২৪টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে উৎসব পালন করতে পারেন।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বন্দর উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান লাঙ্গলবন্দের রাজঘাট দুর্গা মন্দির, প্রেমতলা স্বামী দ্বিগবিজয় ও চরশ্রীরামপুরের ব্রহ্মাউপাসনালয় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জেলা প্রশাসক এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই এই সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তাটি শুধু বাংলাদেশে নয়, গোটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে। এটি প্রমাণ করে আমাদের সমাজে ভিন্ন ধর্মের মানুষও একে অপরের উৎসবে আনন্দ ভাগাভাগি করে।
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, আনসার ও ভিডিপির জেলা অ্যাডজুট্যান্ট কানিজ ফাতেমা শান্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহিমা আক্তার ইতি, শিক্ষা অফিসার আবদুল কাইয়ুম, আশরাফউদ্দিন খান, বন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল আলম জাহিদ, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তারক দাস ও সাধারণ সম্পাদক শ্যামল বিশ্বাসসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক পূজামণ্ডপের আয়োজকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং পূজার নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, জেলার সর্বত্র শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। পূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলিম, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষও আনন্দ ভাগাভাগি করতে পূজামণ্ডপে আসছেন। সবাই একসাথে উৎসব উদযাপন করছে যা বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতি ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
জেলা প্রশাসকের এই বার্তা শুধু নারায়ণগঞ্জের নয়, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে বিশ্ব দরবারে পৌঁছানোর প্রত্যাশা রাখে। প্রশাসনের কার্যকর তত্ত্বাবধান ও স্থানীয়দের আন্তরিক অংশগ্রহণে এবারের দুর্গা পূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপিত হওয়ায় এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে।