খাঁন মোঃ আঃ মজিদ দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি
দিনাজপুর আমলি আদালতের পেশকার কক্ষে কর্মরত মো. সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, হয়রানি এবং এক প্রবীণ সংবাদকর্মীর ওপর হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার সহযোগীদের নিয়ে আদালতে আসা বাদী ও বিবাদীপক্ষের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কোনো মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ, ওয়ারেন্টের কাগজ উত্তোলন কিংবা মামলা ফাইলিংয়ের ক্ষেত্রে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব অর্থ অবৈধভাবে আদায় করা হয় এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলার কাগজপত্র দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়।
একাধিক মামলার এক প্রবীণ বাদী ও সংবাদকর্মী আব্দুল মজিদ খান অভিযোগ করেন, সহযোগিতা পাওয়ার আশায় তিনি দিনাজপুর আমলি আদালতের পেশকার মো. সাব্বির হোসেনের কাছে গেলে তাকে সহায়তা না করে ‘তসলিম’ নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি মামলায় তাকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে বিবাদীপক্ষকে সহযোগিতা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী জানান, গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মামলা-সংক্রান্ত বিষয় জানতে দিনাজপুর আমলি আদালতের পেশকার অফিসে গেলে সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং চেয়ারে বসা অবস্থায় তাকে মাটিতে ফেলে দেন। পরে উপস্থিত কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পরও তিনি এখন পর্যন্ত কোনো সুবিচার পাননি বলে জানান।
সচেতন মহলের মতে, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।



















