বরগুনার আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি রেজাউল করিম আরেফী। গত মঙ্গলবার স্থানীয় এক অসহায় সনাতন ধর্মাবলম্বী বৃদ্ধের মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ার পর কোনো ধরনের দ্বিধা বা সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা ছাড়াই রেজাউল করিম এগিয়ে আসেন এবং নিজের রক্ত দান করে ওই তরুণীর জীবন বাঁচাতে সহায়তা করেন। ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে জানাজানি হওয়ার পর থেকে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে প্রশংসার জোয়ার বইছে, যা বর্তমান সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক সংহতির এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতাদর্শের বিভাজন যে মানবিক প্রয়োজনে কোনো বাধা হতে পারে না, এই ঘটনাটি তারই একটি জ্বলন্ত প্রমাণ হিসেবে স্থানীয় জনমনে দাগ কেটেছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধ এবং তার পরিবারের সদস্যরা জানান, মেয়ের সংকটাপন্ন মুহূর্তে রক্তের যোগান পাওয়া তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল এবং সামাজিক যোগাযোগ সীমিত হওয়ায় দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে পাওয়া নিয়ে তারা চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে রেজাউল করিমের এই নিঃস্বার্থ সহযোগিতা তাদের কাছে কেবল রক্তদান নয়, বরং চরম বিপদের মুহূর্তে এক বড় আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রেজাউল করিম সংবাদ পাওয়া মাত্রই কোনো প্রকার পূর্বশর্ত ছাড়াই হাসপাতালে ছুটে যান এবং প্রয়োজনীয় রক্ত সংগ্রহে সহায়তা করেন। তার এই দ্রুত পদক্ষেপের ফলে তরুণীটির অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, যা ভুক্তভোগী পরিবারকে এক অনিশ্চিত বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে।
এ বিষয়ে রেজাউল করিম আরেফী তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, একজন মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ইবাদত এবং নৈতিক দায়িত্ব। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, রক্ত কোনো ধর্ম বা রাজনৈতিক দলের পরিচয় বহন করে না, এটি কেবল জীবন বাঁচানোর একটি মাধ্যম। তার এই মানবিক উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, বর্তমান সময়ে যখন মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরির চেষ্টা চালানো হয়, তখন এমন পদক্ষেপ সমাজে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বীজ বপন করে। স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, এই ধরনের ব্যক্তিগত উদ্যোগগুলোই তৃণমূল পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এহেন দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে স্থানীয় অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কর্মীদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিশেষে, রেজাউল করিমের এই মহানুভবতা স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা বা অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন না হলেও এটি সামাজিক পুঁজি ও নৈতিকতার এক বিশাল ভিত্তি স্থাপন করেছে। এই ঘটনার প্রভাব সুদূরপ্রসারী, কারণ এটি সাধারণ মানুষের মাঝে পারস্পরিক আস্থার জায়গাটিকে আরও মজবুত করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সমাজে অসহিষ্ণুতা কমে আসবে এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের সংস্কৃতি আরও বেগবান হবে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন। বরগুনার এই ঘটনাটি দেশের অন্যান্য প্রান্তের মানুষের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যেখানে সংকীর্ণতা জয় করে মানবতার জয়গান গাওয়া হয়েছে।