close

লাইক দিন পয়েন্ট জিতুন!

দেশে অনলাইন জুয়ার সর্বনাশা বিস্তার: তরুণ সমাজ বিপথগামী, বাড়ছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট..

MAHADI HASSAN RIPON avatar   
MAHADI HASSAN RIPON
****

স্টাফ রিপোর্টারঃ তরুণ সমাজ বিপথগামী, বাড়ছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট।দেশের প্রায় সব প্রান্তেই মাদকের মতোই নীরবে ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়ার বিষাক্ত ছোবল। শহর থেকে গ্রাম, তরুণ থেকে বৃদ্ধ—বিভিন্ন বয়সের এবং শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। সহজলভ্য ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গজিয়ে ওঠা শত শত জুয়ার সাইট ও অ্যাপ দেশের যুবসমাজকে ঠেলে দিচ্ছে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে। এর ফলে কেবল ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়েই নয়, জাতীয়ভাবেও তৈরি হচ্ছে মারাত্মক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট।

অনলাইন জুয়ার প্রধান শিকার হচ্ছে দেশের তরুণ ও যুবসমাজ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং খেলাধুলা বিষয়ক ওয়েবসাইটে লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তরুণদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এক ক্লিকেই বিপুল টাকা জেতার স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের এই সর্বনাশা খেলায় টেনে আনা হচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং বেকার যুবকরা এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে সবচেয়ে বেশি। এর ফলে তাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা এবং মানসিক অবক্ষয়।অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে দেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে।

জুয়ার সাইটগুলোর অধিকাংশই দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হয় এবং লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হয় মোবাইল ব্যাংকিং, হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, এই টাকার অঙ্ক বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে ডলার সংকট।অনলাইন জুয়ার আসক্তি সমাজে নানা ধরনের অবক্ষয় ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে তুলছে। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা এমনকি পারিবারিক সম্পত্তি বিক্রির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এই আসক্তির কারণে পরিবারে বাড়ছে অশান্তি, কলহ ও বিবাহবিচ্ছেদের মতো ঘটনা। এছাড়া, জুয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে হতাশায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটছে।

বাংলাদেশে জুয়া খেলা নিষিদ্ধ হলেও বিদ্যমান “প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭” অনলাইন জুয়ার মতো আধুনিক অপরাধকে কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম নয়। এই আইনে শাস্তির পরিমাণ খুবই নগণ্য হওয়ায় অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। যদিও সম্প্রতি “সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ, ২০২৫” এর মাধ্যমে অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং “জুয়া আইন, ২০২৩” এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে, তবে এর কার্যকর প্রয়োগ এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং অনলাইন জুয়ার সাইট ও অ্যাপগুলো বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। তরুণদের মধ্যে এর কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে নজরদারি বাড়ানোর মাধ্যমে এই সর্বনাশা আসক্তি থেকে তাদের রক্ষা করা সম্ভব। অন্যথায়, অনলাইন জুয়ার এই বিষাক্ত ছোবল দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক অন্ধকার পথে ঠেলে দেবে, যা জাতীয় জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনবে।

Aucun commentaire trouvé