ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলে বহিরাগত প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বৈধ শিক্ষার্থীরাই কেবল হলে থাকতে পারবেন।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের অরাজকতা এড়াতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ডাকসু নির্বাচন কমিশন। এর অংশ হিসেবে আজ থেকে ঢাবির সব আবাসিক হলে বহিরাগত বা অতিথিদের প্রবেশ ও অবস্থান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে হলে কেবল বৈধ শিক্ষার্থীরাই অবস্থান করতে পারবেন। কোনো অতিথি বা বহিরাগতকে হলে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনিক মহল জানিয়েছে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে নির্বাচনের সময় হলে বহিরাগতদের উপস্থিতি নানা ধরনের উত্তেজনা ও সংঘর্ষের জন্ম দেয়। ফলে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়। এবারের নির্দেশনার মাধ্যমে সেই ধরনের ঝুঁকি আগেভাগেই এড়াতে চাইছে কর্তৃপক্ষ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও নিরপেক্ষ ভোট পরিবেশ তৈরি করা। এজন্য বহিরাগত বা অতিথিদের হলে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।” তিনি আরও জানান, প্রতিটি হলে প্রশাসনিক তদারকি বাড়ানো হয়েছে, পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিয়মিত টহল দেবে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করে, বহিরাগতদের প্রভাবমুক্ত পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের মতামতই প্রতিফলিত হবে। অনেক শিক্ষার্থী আশা প্রকাশ করেছেন, এই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণে বাড়বে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে প্রায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান করে। দীর্ঘ সময় পর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তবে নির্বাচন ঘিরে নানা ধরনের আশঙ্কাও রয়েছে। এজন্যই নির্বাচন কমিশন নিরাপত্তা ইস্যুকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চাই ভোটের দিন কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটুক। তাই আগে থেকেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহিরাগতরা হলে প্রবেশ করতে না পারলে অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে।”
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভোটের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হবে। কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি হলে আলাদা নিরাপত্তা টিম থাকবে এবং নিয়মিত নজরদারি চলবে। সব মিলিয়ে এবারের ডাকসু নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করার ব্যাপারে আশাবাদী তারা।
এই নির্দেশনার মাধ্যমে স্পষ্ট হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ রাখার বিষয়ে কোনো আপস করতে রাজি নয়। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা—এবারের নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ।