চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে শিক্ষার্থী-শিক্ষক আহত হলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপে শিথিলতা দেখা গেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ডাকসু জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসনের গাফিলতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী ও ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট মনোনীত প্রার্থী এস এম ফরহাদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, এক ছাত্রী হেনস্তার জেরে শুরু হওয়া ঘটনাকে প্রশাসন সঠিকভাবে সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ফরহাদ লিখেছেন, শনিবার গভীর রাতে এক ছাত্রী হেনস্তার ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। এই সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়, যাদের মধ্যে অনেককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার মতো ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সহিংসতা থামাতে এগিয়ে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষককেও হামলার শিকার হতে হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত শিথিল, যা ঘটনাকে আরও জটিল ও রক্তাক্ত করেছে।
ফরহাদ তার পোস্টে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “চবি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর বর্বরোচিত এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি যে, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রশাসনের দেরি ও অদক্ষতার কারণেই শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরেছে। অনতিবিলম্বে সংঘাত নিরসন করে হামলাকারী দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। ফরহাদ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থী এভাবে হামলার শিকার না হয়।
উল্লেখ্য, সহিংস ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা শিক্ষার্থী-শিক্ষক মহলে আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে সংঘর্ষের ঘটনাগুলো দীর্ঘদিনের অস্থিরতার প্রতিফলন। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি শুরু থেকেই শক্ত অবস্থান নিত, তবে এত বড় ধরনের সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হতো।
ফরহাদের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুনভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে একমত প্রকাশ করে লিখছেন, প্রশাসনের দায় এড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে না পারলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাঙ্গন নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে।