close

ভিডিও আপলোড করুন পয়েন্ট জিতুন!

চবি শিক্ষার্থীদের ‘স ন্ত্রা সী’ বলে বহিষ্কার বিএনপি নেতা উদয় কুসুম..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
BNP leader Uday Kusum has been expelled after calling Chittagong University students "terrorists" in a Facebook post. He also faces allegations of inciting violence and violating party disci..

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে ফেসবুক পোস্ট করায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা উদয় কুসুমকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপ ও হামলার ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য উদয় কুসুম বড়ুয়াকে বহিষ্কার করেছে দলটি। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেন। এ ঘটনার পর থেকেই ছাত্রসমাজ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

রবিবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলের নির্দেশনা অমান্য করায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার জন্য বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য উদয় কুসুম বড়ুয়াকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।”

বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, এ ধরনের মন্তব্য কেবল সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করে না, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ উসকে দিয়ে রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি তৈরি করে। শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একজন কেন্দ্রীয় নেতার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য মোটেও প্রত্যাশিত নয়।

এর আগে রবিবার সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে উদয় কুসুম বড়ুয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করেন। পোস্টটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে হামলার ইন্ধন দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে, যা দলের ভেতরে আরও অস্বস্তি তৈরি করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বা সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে নেতাদের এ ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আস্থাহীন মনোভাব প্রকাশ করলে রাজনীতির প্রতি মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আরও বাড়ে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের শিক্ষার্থীরা উদয় কুসুমের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা মনে করছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসী বলা মানে পুরো উচ্চশিক্ষা অঙ্গনকে অপমান করা।

বিএনপির পক্ষ থেকেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপ বা উসকানিমূলক বক্তব্য কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। দলের নীতি ও আদর্শের বাইরে গিয়ে কেউ যদি নিজের অবস্থান থেকে বিভ্রান্তিমূলক বার্তা ছড়ান, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে বিএনপি আবারও জানিয়ে দিল, তারা সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়াই প্রমাণ করে, বিএনপি এখন আর কোনো নেতাকর্মীর বেপরোয়া আচরণকে প্রশ্রয় দেবে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ও তার পরবর্তী বহিষ্কার বিএনপির ভেতরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি দলের ভেতরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করল রাজনৈতিক দলগুলো এখন সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যকলাপকেও গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

No comments found