চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি বলছে, এই হামলা শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ও শান্তি নষ্ট করেছে এবং অবিলম্বে দোষীদের শাস্তি দাবি করেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পরপর সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম রোববার (৩১ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে এ হামলাকে ‘বর্বরোচিত ও নিন্দনীয়’ বলে অভিহিত করেন এবং অবিলম্বে এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
বিবৃতিতে নেতারা জানান, গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তা প্রহরীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে সহপাঠীরা প্রতিবাদ জানালে স্থানীয় কতিপয় সন্ত্রাসী মসজিদের মাইক ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। ওই ঘটনার রেশ না কাটতেই রোববার ফের শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিত ও সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা হয়। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত অনেককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
শিবির নেতারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা উল্লেখ করেন, প্রশাসনের দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর এলাকাবাসীর কর্তব্য হলো সহযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা। কিন্তু দু’পক্ষেরই দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একটি মহল ক্যাম্পাস এলাকায় নৈরাজ্য চালাচ্ছে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলমান ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতি অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করাও অপরিহার্য।
শিবিরের পক্ষ থেকে আহত শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের দাবিও জানানো হয়। তারা জোর দিয়ে বলেন, এই ঘটনায় যদি কোনো সুযোগসন্ধানী পক্ষের সংশ্লিষ্টতা থাকে, তবে তা খতিয়ে দেখে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর টানা হামলা শিক্ষাঙ্গনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও নিন্দার ঝড় বইছে। দেশের সর্বস্তরের সচেতন মানুষও মনে করছেন, এই হামলা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, বরং পুরো দেশের শিক্ষা পরিবেশের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করছেন—সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে দেবে। না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।