কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক আবদুল হালিমের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ আবদুল হালিমের বাড়িতে প্রবেশ করে তল্লাশি চালান। ঘটনাস্থলে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তল্লাশি করতে আসা ব্যক্তিদের কারও গায়ে কোনো ধরনের সরকারি পোশাক বা স্পষ্ট পরিচয়পত্র দৃশ্যমান ছিল না।
ভিডিওতে আবদুল হালিমের মেয়েকে বলতে শোনা যায়,
“আপনারা কারা? কেন আমাদের ঘর তল্লাশি করছেন? সারা দেশে কি আমার বাবা একাই আওয়ামী লীগ করেন যে আপনারা এসে এভাবে আমাদের ঘর তল্লাশি করছেন?”—এ সময় তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ সময় আবদুল হালিমের মেয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে জানা যায়, বরুড়া থানার এসআই তাজুল ইসলাম ওই বাড়িতে তল্লাশি চালান। এ বিষয়ে জানতে তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না, ওসি স্যারকে ফোন দেন।”
পরে বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে আবদুল হালিমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, তার নামে দুটি মামলা রয়েছে এবং তিনি উভয় মামলায় জামিনে আছেন। তিনি বলেন,
“আমি বর্তমানে আমার বাড়িতে নেই। আমার ঘরে আমার মেয়ে ও স্ত্রী থাকেন। আমার নামে যদি কোনো মামলা থাকে বা আমার বিরুদ্ধে কোনো ওয়ারেন্ট থাকে, তাহলে আমার ঘর তল্লাশি দেওয়ার সময় মহিলা পুলিশ থাকার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তারা যেভাবে আমার ঘর তল্লাশি দিয়েছে, তা কতটুকু আইনের মধ্যে পড়ে আমি জানি না। কোনো ওয়ারেন্ট না দেখিয়ে এভাবে ঘর তল্লাশি করা কতটুকু আইনের মধ্যে পড়ে সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু আমার পরিবারকে এভাবে হয়রানি করার মানে কী তা বুঝতে পারছি না।”
এ ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।



















