বরগুনা-১ আসনের সংসদীয় এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের বরগুনা জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুশ শাকুর। গত কয়েকদিনে তিনি তার নিয়মিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থানীয় উপজেলা কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে স্থানীয় অবকাঠামোগত সমস্যা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে তার আলোচনা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত অর্থনৈতিক শুমারি সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভায় অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। এই কার্যক্রমগুলো মূলত স্থানীয় জনগণের কল্যাণে এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতা থেকে তিনি বিকেলে ২ নং গৌরীচন্না ইউনিয়নের যুবনেতা অলি উল্লাহর পিতার জানাজায় অংশগ্রহণ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
জনসাধারণের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধান এবং সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াতেও মাওলানা আব্দুশ শাকুর তার সম্পৃক্ততা অব্যাহত রেখেছেন। বিকেল ৪টা থেকে শুরু হওয়া তার এই সেবামূলক কার্যক্রম মূলত স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখছে। ভুক্তভোগীদের মতে, দাপ্তরিক জটিলতা নিরসন এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিরোধগুলো স্থানীয়ভাবে সমাধান হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের হয়রানি অনেকটাই লাঘব হচ্ছে। মাওলানা আব্দুশ শাকুরের দাবি, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আদর্শের জায়গায় অটল থেকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোই তার প্রধান লক্ষ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটে না, যা তিনি তার সাম্প্রতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমন্বয় করার চেষ্টা করছেন। তার এই জনসেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গি স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন মাওলানা আব্দুশ শাকুরের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। প্রশাসনিক সভায় তার অংশগ্রহণ এবং উন্নয়নমূলক প্রস্তাবনাগুলো জনস্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন। তবে পরিবহন খাত বা অন্যান্য সেবামূলক ক্ষেত্রে যে ধরনের অব্যবস্থাপনা রয়েছে, তা নিরসনে প্রশাসনিক নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মাওলানা আব্দুশ শাকুর তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, তার এই শ্রম ও প্রচেষ্টা মূলত দেশ ও মানবতার কল্যাণে নিবেদিত। তিনি মনে করেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল বরগুনা-১ আসনের উন্নয়ন সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব। তার মতে, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার চর্চা যখন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হয়, তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সহজতর হয়।
সামগ্রিকভাবে, বরগুনার আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে মাওলানা আব্দুশ শাকুরের এই ধারাবাহিক কর্মতৎপরতা স্থানীয় রাজনীতি ও জনসেবায় নতুন ধারার ইঙ্গিত দেয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম বরগুনার সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কি ধরনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে তা স্থানীয় পর্যায়ে সেবার মান বৃদ্ধি করবে এবং জনবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।