বরাদ্দ সংকটে থমকে সীতাকুণ্ডের উন্নয়ন, বন্ধ গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার; বর্ষা ঘিরে শঙ্কা
এম জামশেদ আলম
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি :
শিল্প, বাণিজ্য ও পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জনপদ সীতাকুণ্ডে উন্নয়ন কার্যক্রম বর্তমানে স্থবিরতার মুখে পড়েছে। সরকারি বরাদ্দ না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, জলাবদ্ধতা ও খাল ভরাটের কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্ষা ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, মুরাদপুর ও বাড়বকুণ্ডসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। কোথাও কাদা ও জমে থাকা পানির কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের চলাচল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিরহাট বাজার থেকে পূর্ব সৈয়দপুর মালতিরপোল পর্যন্ত সড়কে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে সড়কটির টেন্ডার সম্পন্ন হলেও এখনো কোনো উন্নয়নকাজ শুরু হয়নি। উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টেন্ডার হওয়ার পরও ঠিকাদার কাজ শুরু করেননি। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে অনেক সড়ক এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
অন্যদিকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে ঘরে ঢুকে পড়ছে। পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, খাল দখল ও অপরিকল্পিতভাবে মাটি ভরাটের কারণে প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে খাল ও ড্রেনের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে কৃষিজমিতে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত সীতাকুণ্ড উপজেলার জন্য কোনো বরাদ্দ আসেনি। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, সংসদ সদস্য না থাকায় সীতাকুণ্ড যথাযথ উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির বরাদ্দ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আসে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সীতাকুণ্ড উপজেলার জন্য কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, বরাদ্দ পেলেই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম বলেন, “শুষ্ক মৌসুম উন্নয়নকাজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় এবার কোনো কাজ শুরু করা যায়নি। এতে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ছে, তেমনি শ্রমিকরাও কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন।”
বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে সীতাকুণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
জনপ্রিয় সংবাদপত্র
×