বোচাগঞ্জ থানা অভিযান পরিচালনা করে কোটি টাকার সম্পদের ৩টি ফাইলের মধ্যে ২টি উদ্ধার, দুই পক্ষের প্রাপ্তি স্বীকার..

MD ABDUL MAZID KHAN avatar   
MD ABDUL MAZID KHAN
বোচাগঞ্জ থানা অভিযান পরিচালনা করে কোটি টাকার সম্পদের ৩টি ফাইলের মধ্যে ২টি উদ্ধার, দুই পক্ষের প্রাপ্তি স্বীকার..
বোচাগঞ্জ থানা অভিযান পরিচালনা করে কোটি টাকার সম্পদের ৩টি ফাইলের মধ্যে ২টি উদ্ধার, দুই পক্ষের প্রাপ্তি স্বীকার..
****

 

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

দিনাজপুর প্রতিনিধি: খাঁন মোঃ আঃ মজিদ

 

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে কোটি টাকার সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ফাইলের মধ্যে দুটি ফাইল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে এখনও দুই কন্যা সন্তানকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

জানা যায়, ৭ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় কয়েকজন যুবক সর্বপ্রথম বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। প্রায় ৫ দিন আগে ওই জরুরি ফাইল লাইসুর রহমানের নামে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে আসে। পরবর্তীতে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস থেকে লাইসুর রহমান ০৩/০৩/২০২৬ ইংরেজি তারিখে আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে দুটি ফাইল বোচাগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসারের বরাবর জমা দেন।

 

অভিযুক্ত আশা আক্তার (পিতা: লাইছুর রহমান) তার দুই কন্যা সন্তান জান্নাতি আক্তার (৬) ও মিম আক্তার (৪)-কে সঙ্গে নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিল বলে জানা যায়। মির্জাপুর থানা ও দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায় কোটি টাকার সম্পদের জরুরি ফাইলের চার ভাগের তিন ভাগ উদ্ধার করা হয়। বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমানের উদ্যোগে ফাইল উদ্ধার করা হলেও দুঃখজনকভাবে জান্নাতি আক্তার ও মিম আক্তারকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

অভিযোগ রয়েছে, টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানা সংলগ্ন গড়াই হাটুভাঙ্গা মমিনপুর এলাকায় দফায় দফায় গোপন বৈঠক হয়েছে। দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির দুই এসআইসহ কয়েকজন এদিক-সেদিক করার মাধ্যমে অভিযুক্তের পক্ষ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। মির্জাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে পূর্বের আইনগত বিষয়গুলোও উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বাদী আব্দুল মজিদ খানকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, “আপনার স্ত্রী আশা আক্তার একদিকে যেমন অসামাজিক কার্যকলাপ ও সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে এবং আপনাকে ডিভোর্স না করে বিভিন্ন অবৈধ কাজের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। আপনার কন্যা সন্তানরা কী শিখবে? তাদেরকে বাঁচাতে হলে ওই দুই কন্যা সন্তানকে উদ্ধার করতে হবে।”

 

এর প্রেক্ষিতে সাব-ইন্সপেক্টর শামীম, এসআই আব্দুর রহমান, এসআই কাওসার, এসআই খালেক এবং কনস্টেবল কাজলীকে নিয়ে ০২/০৩/২০২৬ ইংরেজি তারিখে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরদিন মির্জাপুর থানা ও দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির দুই এসআইয়ের সহযোগিতায় হাটুভাঙ্গা মমিনপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযুক্ত আশা আক্তারের বিরুদ্ধে কোনো ওয়ারেন্ট না থাকায় শুধুমাত্র মিসিং ডায়েরি ও কোটি টাকার সম্পদের জরুরি ফাইল সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু অভিযুক্তরা অসুস্থতার অজুহাত দেখানোর কারণে দুই কন্যা সন্তানকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

বাদী আব্দুল মজিদ খান বলেন, মনগড়া বক্তব্যের মাধ্যমে অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে যে কাজ করা হয়েছে তা না হলে কন্যা সন্তানদের উদ্ধার করা যেত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত আশা আক্তার একজন আইনবিরোধী, সমাজবিরোধী এবং প্রতারক প্রকৃতির ব্যক্তি। তিনি আবাসিক হোটেল, ছাত্রাবাস, ছাত্র নিবাস, চুক্তিভিত্তিক বিবাহ (রক্ষিতা) এবং একাধিক অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে— লাইসুর রহমান (পিতা: মৃত মফির উদ্দিন), লিপি আক্তার (স্বামী: লাইসুর উদ্দিন), বড় দুলাভাই দেলোয়ার হোসেন (পিতা: মমিনুল ইসলাম ওরফে হামিদুল), বড় বোন রাশিদা আক্তার (স্বামী: দেলোয়ার হোসেন), ছোট ভাই মোঃ নয়ন মিয়া (পিতা: লাইছুর রহমান), মোঃ আশরাফুল (পিতা: আব্দুস সামাদ) সহ আরও অনেকের সহযোগিতায় এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

বর্তমানে অভিযুক্তরা টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানা সংলগ্ন গড়াই হাটুভাঙ্গা মমিনপুর এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে দিনাজপুর আদালতে নয়টি মামলা এবং ছয়টি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

উদ্ধারকৃত মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে— ১০০ টাকা মূল্যের ৩০টি স্ট্যাম্প, ওয়ারিশ সনদপত্র ও মৃত্যু সনদপত্র ৫টি, জন্ম নিবন্ধন ৫টি, নাগরিক সার্টিফিকেট ৩টি, প্রত্যয়ন পত্র ৮টি, জন্ম নিবন্ধন আরও ৫টি, নারী ও শিশু মামলার ২ সেট কাগজপত্র, সোনালী ব্যাংকের চেক বই ১টি, শিশু কার্ড ২টি এবং বাড়ির খারিজ নামা ১ সেট।

 

এছাড়া এখনও অনুদ্ধারকৃত মালামাল ও কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে সাড়ে ছয় ভরি সোনা গহনার রশিদসহ ১১টি জিনিস, সাড়ে ১৭ ভরি রুপার অলংকারের রশিদ ৩টি, আল্লাহু লকেট চেইন, ৪ জোড়া নুপুর, এলইডি টিভি, সেলাই মেশিন, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার, আয়রন, ৪টি নাকফুলের রশিদ, Realme Note 10 Pro, Infinix Hot 20, Samsung Galaxy A12, Samsung Galaxy A13 এবং Oppo Reno 8T 5G মোবাইলের রশিদ, ১০০ টাকা মূল্যের ৯টি স্ট্যাম্প, জন্ম নিবন্ধন ৩টি, ভোটার আইডি কার্ড ৫টি, শিশু কার্ড ২টি, নাগরিক সার্টিফিকেট ১টি, ডিভোর্সের কাগজ ৩টি, কোর্ট ম্যারেজের কাগজ, বিয়ের কাগজ ৪টি, আপসনামার ৯টি স্ট্যাম্প, বাড়ির খারিজ নামা ২ টি, বাড়ির দলিল ৩টি, সবুজ রঙের একটি ফাইল এবং প্রিমিয়াম ব্যাংকের চেক বই এবং জানা-অজানা আরো অনেক কিছুই ছিল তাড়াহুড়ার কারণে যা মামলার আর্জিতে উল্লেখ করা হয়নি।

 

এরই ধারাবাহিকতায় ০৪/০৩/২০২৬ ইংরেজি তারিখে অভিযান পরিচালনাকারী সাব-ইন্সপেক্টর শামীম বাদী আঃ মজিদ খানের কাছে তিনটি ফাইলের মধ্যে উদ্ধারকৃত দুটি ফাইল হস্তান্তর করেন। পরে ফাইল গ্রহণের প্রাপ্তি স্বীকার বোচাগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসে জমা দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

পরবর্তীতে ০৮/০৩/২০২৬ ইংরেজি তারিখে বিষয়টি ডাকযোগে পাঠানো হয় এবং বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ তা গ্রহণ করে। ডাক রশিদ নং ২৬৭ এবং প্রাপ্তি স্বীকার ডাক কার্ড নং DG726751920BD অনুযায়ী আরপি-৫৪ এর মাধ্যমে রমন মুন্সি তা গ্রহণ করেন।

 

বাদী ও স্থানীয় সচেতন মহল আশা করছেন, বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বাকি ফাইল ও দুই কন্যা সন্তান উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

No comments found


News Card Generator