রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। শিবির সভাপতির বুকে ছাত্রদলের দিক থেকে বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আবারও উত্তেজনায় কাঁপছে রাকসু (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচনের প্রাক্কালে। মনোনয়ন ফরম তোলার সময় ছাত্রদলের দিক থেকে ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতির বুকে হঠাৎ একটি বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে রাকসু ভবনের সামনে, যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেই এই অপ্রত্যাশিত উত্তেজনার সূচনা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ বক্তব্য রাখছিলেন এবং তার পাশে ছিলেন রাবি শাখার সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। বক্তব্য চলাকালে হঠাৎ ছাত্রদলের দিক থেকে একটি বোতল ছুড়ে মারা হয়, যা সরাসরি গিয়ে লাগে সভাপতি জাহিদের বুকে। এ ঘটনায় মুহূর্তেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ বলেন, “রাবিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে—এমন ভ্রান্ত প্রোপাগাণ্ডা চালানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে, আমাদের মনোনয়ন ফরম উত্তোলন কার্যক্রম ঠেকাতে বহিরাগতদের এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে। এমনকি রাকসু ভবনেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, রাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার, এবং সেই অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
অপরদিকে শিবিরের রাবি শাখার সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমি শুধুমাত্র মনোনয়ন তুলতে এসেছি। যারা বোতল নিক্ষেপ করেছে, তাদের জানাতে চাই আমরা কিন্তু আমাদের শক্তি এখনও প্রদর্শন করিনি। আমরা কোনো দ্বন্দ্ব চাই না। আমরা ফরম তুলব, তারপর চলে যাব। ছাত্রদলের ভাইদেরকে আমরা বন্ধু সংগঠন হিসেবেই দেখি। তারা যদি যৌক্তিক দাবির জন্য আন্দোলন করে, আমরা তাতে বাধা দিই না। তবে কেউ যদি শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে চায়, তবে তাদের উচিত ছাত্রলীগ থেকে শিক্ষা নেওয়া।”
এ ঘটনার আগে থেকেই রাবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সকাল ৯টা থেকে রাকসু কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে তারা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর ১টার দিকে তালা ভেঙে রাকসু কার্যালয়ে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা, এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই শিবিরের মনোনয়ন উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়।
ক্যাম্পাসে এই ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভীত হয়ে পড়েছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যদি এ ধরনের হামলা ও সংঘর্ষ চলতে থাকে তবে রাকসুর নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির—দুটি ছাত্র সংগঠনই নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে সচেষ্ট। তবে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে নির্বাচনী পরিবেশ এখনো স্থিতিশীল নয়। অনেকে মনে করছেন, প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা ছাড়া রাকসু নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হবে।
রবিবারের এই ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তীব্র আলোচনা চলছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাকসু হলো শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জায়গা। সেখানে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। তারা সবাই আহ্বান জানাচ্ছেন, যেন রাজনৈতিক সহিংসতা বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।
বর্তমানে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এভাবে যদি একের পর এক হামলা, তালা ঝুলিয়ে দেওয়া ও ভাঙচুর চলতে থাকে তবে শিক্ষার্থীদের অধিকার বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়বে।