close

লাইক দিন পয়েন্ট জিতুন!

বিচার কি শুধু নিন্দা? নুরের ওপর হামলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে জনগণ..

Abdullah Al Mamun avatar   
Abdullah Al Mamun
​বাংলার মানুষ এবং নুরের লক্ষ লক্ষ সমর্থক এখন তাকিয়ে আছেন—নিন্দার বাইরে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় সেদিকে।..

গণঅধিকার পরিষদের নেতা ভিপি নুরুল হক নুরের উপর আজকের হামলার পর নিন্দার ঝড় উঠেছে। সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল, সকলেই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। দেশের বিশিষ্ট আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তবে প্রশ্ন হলো, এই নিন্দা কি নিছকই কথার কথা, নাকি এর পেছনে রয়েছে সত্যিকারের বিচার প্রতিষ্ঠার সদিচ্ছা? বাংলার মানুষ এবং ভিপি নুরের অগণিত সমর্থক জানতে চান, উচ্চ পদে থাকা এই ব্যক্তিরা কি শুধু নিন্দা জানাতেই পারেন, নাকি এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতেও তারা সক্ষম?

​ভিপি নুরের উপর হামলা এবারই প্রথম নয়। তার রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে রয়েছে হামলার ক্ষতচিহ্ন। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে আজকের দিন পর্যন্ত তিনি অসংখ্যবার শারীরিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন। প্রতিবারই এই হামলাগুলোর নিন্দা জানানো হয়েছে, বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো হামলারই সুষ্ঠু বিচার হয়নি। বরং হামলাকারীরা বারবার দায়মুক্তি পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

​ডাকসু ভবনে নুরের উপর বর্বর হামলার কথা অনেকেই ভুলে যাননি। সেদিনের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা পার পেয়ে গিয়েছিল। পুলিশ তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানায়। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের আজকের নিন্দা তাই অনেকের কাছেই কেবল একটি গতানুগতিক আনুষ্ঠানিকতা মনে হচ্ছে। কারণ, অতীতেও এমন নিন্দা বারবার শোনা গেছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

​ভিপি নুর যখন রক্তে ভিজে হাসপাতালে, তখন তার দলের লোকজন, সমর্থক এবং বাংলার আপামর জনগণ জানতে চান—এই হামলার বিচার কি হবে? নাকি বরাবরের মতোই এটিও বিচারহীনতার সংস্কৃতির বলি হবে? আসিফ নজরুলের মতো একজন আইন উপদেষ্টার নিন্দা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে আশার সঞ্চার করে। কিন্তু তার এই নিন্দা যদি কেবল একটি বিবৃতিতেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা আরও বড় হতাশার জন্ম দেবে।

​দেশের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তিরা যখন কোনো ঘটনার নিন্দা জানান, তখন জনগণ আশা করে এর পেছনে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ থাকবে। একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন হামলা চালানোর সাহস না পায়। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই আশা খুবই ক্ষীণ। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলাগুলোর বিচার না হওয়াটাই যেন এখন একটি অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় ভিপি নুর বা তার দলের নেতাকর্মীরা কি করে আশ্বস্ত হবেন যে, এই হামলার বিচার হবে?

​আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নিন্দা তখনই অর্থবহ হবে, যখন তার নিন্দা শুধু কথায় নয়, কাজেও প্রতিফলিত হবে। তাকে এবং তার মতো অবস্থানে থাকা অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উচিত শুধুমাত্র নিন্দা না জানিয়ে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সরকারকে চাপ দেওয়া। নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করা।

​জনগণ দেখতে চায়, নিন্দা জানানোর পাশাপাশি তারা প্রতিবাদ করছেন, বিচার নিশ্চিত করার জন্য ভূমিকা রাখছেন। নাহলে তাদের এই নিন্দা কেবলই একটি অন্তঃসারশূন্য শব্দ হয়ে থাকবে। ভিপি নুরের উপর হামলা কেবল একজন ব্যক্তির উপর হামলা নয়, এটি দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেওয়ার একটি অপচেষ্টা। এই হামলার বিচার না হলে তা আবারও প্রমাণ করবে যে, বাংলাদেশে ভিন্নমতের প্রতি কোনো সম্মান নেই এবং রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিচারহীনতা এখনও একটি অপ্রতিরোধ্য বাস্তবতা।

​বাংলার মানুষ এবং নুরের লক্ষ লক্ষ সমর্থক এখন তাকিয়ে আছেন—নিন্দার বাইরে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় সেদিকে। তারা দেখতে চায়, এই নিন্দা কেবলই একটি আনুষ্ঠানিকতা, নাকি একটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার।

کوئی تبصرہ نہیں ملا