close

কমেন্ট করুন পয়েন্ট জিতুন!

বাংলাদেশে গুমের ঘটনা: মানবাধিকার লঙ্ঘন ও প্রতিরোধের উদ্যোগ..

MD MEHEDI MRIDHA avatar   
MD MEHEDI MRIDHA
বাংলাদেশে গুমের ঘটনা ক্রমবর্ধমান একটি সমস্যা, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত। বর্তমান সরকার গুম প্রতিরোধে নীতিগত উদ্যোগ নিয়েছে।..

জোরপূর্বক গুম এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে স্বীকৃত, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে এই অপরাধের ঘটনা বেশি ঘটে। গুমের মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলন বা ভিন্ন মতাবলম্বী নেতাদের দমন করার জন্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি অনেক সময় নিপীড়নমূলক কৌশল গ্রহণ করে থাকে।

 

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদকালে এমন অনেক গুমের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলো অত্যন্ত মর্মস্পর্শী এবং হৃদয়বিদারক, কারণ আজ পর্যন্ত কোনো গুমের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হয়নি।

 

তবে সম্প্রতি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের মাটিতে যেন আর কোনো গুমের ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে গুম প্রতিরোধে এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হবে।

 

গুমের শিকার হওয়া মানুষগুলো তাদের পরিবারের প্রাণপ্রিয় সদস্য ছিলেন। তাদের স্বপ্ন, ভালোবাসা এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। গুম আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত, এবং আইসিসির রোম সনদের ৭ (২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। মানবাধিকারের এই লঙ্ঘনের জন্য ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

 

প্রতি বছর আন্তর্জাতিক গুম দিবসে রাষ্ট্র কর্তৃক অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে দিবসটি পালন করা হয়। এ সময় গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেন না এবং বিচার পাওয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হন। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

 

তারেক রহমান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তাদের দল ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশে আর কোনো গুম না হয় তা নিশ্চিত করবেন। তিনি আরও বলেন যে, গুম প্রতিরোধে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত আন্তর্জাতিক কনভেনশন (আইসিপিপিইডি) অনুসারে যথাযথ আইন প্রণয়ন করা হবে।

 

মানবতার বিরুদ্ধে এই গুরুতর অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানানো হচ্ছে। গুম প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপগুলি কার্যকর করতে হলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

Nema komentara