বাড্ডায় পুলিশের অভিযানে ৭৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ‘গাঁজা সম্রাট’ রাকিব..

Sumon Hawlader avatar   
Sumon Hawlader
ঢাকার বাড্ডায় পুলিশের অভিযানে ৭৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার হয়েছেন রাকিব শেখ, যিনি রাজধানীর মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য।..

রাজধানীর বাড্ডা এলাকা যেন মাদকের গোপন গুদামে পরিণত হয়েছিল। এই গোপন গুদাম থেকে ৭৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন মোঃ রাকিব শেখ (২৯), যিনি পুলিশের তথ্যমতে একজন পেশাদার মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট ২০২৫) সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাড্ডা থানার পুলিশ একটি বিশেষ অভিযান চালায়। এই অভিযানে বেরাইদ চান্দারটেক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে বিশাল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে মোট ৭৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যা রাজধানীতে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল।

বাড্ডা থানার সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত রাকিব একটি বড় মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য। সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে গাঁজা এনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করতেন তিনি। পুলিশ মনে করছে, রাকিব কেবল একজন ডেলিভারি কারবারি নন, বরং তিনি রাজধানীতে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম মূল খেলোয়াড়।

থানা সূত্রে আরও জানা যায়, “রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা রাজধানীতে সক্রিয় একটি বিশাল গাঁজা নেটওয়ার্কের খোঁজ পেয়েছি। এর পেছনে আরও শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। খুব শিগগিরই তাদেরও গ্রেফতার করা হবে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, রাজধানীর মাদক সিন্ডিকেটের মূল চালকরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

বাড্ডা অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে মাদকের হটস্পট হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় জনগণ অভিযোগ করে আসছেন যে, অল্প বয়সী তরুণদের বিপথে ঠেলে দিচ্ছে এই ভয়াবহ গাঁজা ও ইয়াবা সিন্ডিকেট। গুলশান, রামপুরা ও বেরাইদ এলাকাও মাদক ব্যবসার জন্য কুখ্যাত। পুলিশের এই অভিযান স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে। তবে তারা মনে করছেন, মাদকের বিরুদ্ধে স্থায়ী সমাধান পেতে হলে প্রয়োজন আরও ব্যাপক ও ধারাবাহিক অভিযান।

সরকারের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় করে তোলা হচ্ছে এবং নতুন প্রযুক্তি ও কৌশল ব্যবহার করে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষও মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠছেন এবং মাদক নির্মূলে স্থানীয় কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এই অভিযান ও গ্রেফতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে মাদক সমস্যার সমাধান পেতে হলে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

No se encontraron comentarios