বরগুনার আমতলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, আমতলী উপজেলা শাখার সেক্রেটারি গাজী মুহাম্মাদ বায়েজিদ। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এই নেতা দীর্ঘ সময় ধরে দলের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন শেষে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দলের নীতিনির্ধারক মহল যদি তাকে এই পদের জন্য যোগ্য মনে করে মনোনয়ন প্রদান করে, তবে তিনি জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে প্রস্তুত রয়েছেন। মূলত একটি আদর্শিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের লক্ষ্য থেকেই তিনি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছেন। আমতলী উপজেলাকে একটি সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদক মুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলাই তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু বলে তিনি দাবি করেছেন।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
গাজী মুহাম্মাদ বায়েজিদের মতে, আমতলীর বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষ বিভিন্নভাবে অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার সুবাদে স্থানীয়দের যেসব সমস্যা চিহ্নিত করেছেন, তার মধ্যে চাঁদাবাজি, সালিশ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহার অন্যতম। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার পাওয়া এখন অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে, যার ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বায়েজিদ তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য নয়, বরং সমাজে প্রচলিত অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেই ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান। তার নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন নির্মূল এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
আসন্ন এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমতলী শাখার পক্ষ থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। গাজী মুহাম্মাদ বায়েজিদ জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক খাতের মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। এছাড়া যুব সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করে তাদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে তার। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে এবং জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সেবামূলক শাসন ব্যবস্থা কায়েমের কথা বলেছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, তার এই ঘোষণা আমতলীর নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি নতুন ধারার আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে আদর্শিক রাজনীতির চর্চাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
গাজী মুহাম্মাদ বায়েজিদের এই প্রার্থিতার ঘোষণা আমতলীর রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসলামী আন্দোলনের প্রভাব বিস্তারের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং পরিবর্তনকামী সাধারণ মানুষের মধ্যে তার এই ইশতেহার কেমন প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই আমতলীর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা বাড়ছে যে, জনপ্রতিনিধিরা যেন কেবল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু না হয়ে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেন। যদি তিনি দলীয় মনোনয়ন লাভে সক্ষম হন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তবে আমতলীর নির্বাচনী ফলাফলে তার এই আদর্শিক প্রচারণা একটি উল্লেখযোগ্য ফ্যাক্টর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরিশেষে, একটি সুন্দর, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী আমতলী গঠনের যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছেন, তার বাস্তবায়ন এখন ভোটারদের সমর্থনের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল।