আ. লীগকে ফেরাতে ভারত সেকেন্ড প্রকল্প চালু করেছে : ফারুক হাসান..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
আ. লীগকে ফেরাতে ভারত সেকেন্ড প্রকল্প চালু করেছে : ফারুক হাসান..
আ. লীগকে ফেরাতে ভারত সেকেন্ড প্রকল্প চালু করেছে : ফারুক হাসান..
Faruk Hasan of Gono Odhikar Parishad alleged that India has launched a second project to bring back Awami League by using Jatiya Party in the upcoming election.

গণ অধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগকে ফেরানোর জন্য ভারত জাতীয় পার্টিকে সামনে আনার দ্বিতীয় প্রকল্প চালু করেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে। গণ অধিকার পরিষদের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগকে ফেরাতে ভারত নতুন রাজনৈতিক প্রকল্প চালু করেছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ আর পাবে না। তাই ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী এবার জাতীয় পার্টিকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে পুনরায় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে ফারুক হাসান বলেন, আগস্টের পর ভারতের প্রথম পরিকল্পনা ছিল ‘রিফাইনড আওয়ামী লীগ’ প্রতিষ্ঠা করা। এর মাধ্যমে ছাত্র সমাজ ও সাধারণ মানুষের চোখ এড়িয়ে আওয়ামী লীগকে নতুন আঙ্গিকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু দেশের জনগণ সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে। ফলে ভারত এখন নতুন কৌশল নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই কৌশল হলো জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করে আওয়ামী লীগকে পরোক্ষভাবে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা।

ফারুক হাসান আলোচনায় বলেন, “আওয়ামী লীগ তো আর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগই পাবে না। তাদের কোনো নেতা বা কর্মী আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, লুটপাট ও চুরি-বাটপাড়ির অভিযোগ রয়েছে, তারা যদি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করে, জনগণই তাদের প্রতিহত করবে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতের দ্বিতীয় প্রকল্প এখন পুরোদমে চলমান। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে অন্তত একশো আসনে জিতিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। ফারুক হাসানের মতে, যদি জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়, তবে ভারত সেই দলের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগকে আবার রাজনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে।

রাজনৈতিক মহলে ফারুক হাসানের এই মন্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলগুলো মনে করছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সমীকরণে ভারতের প্রভাব সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি—দুই দলই এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

রাজনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দৃষ্টি থাকে বিশেষভাবে ভারতের দিকে। অনেক সময় দেশটির ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। ফারুক হাসানের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং জনগণকে সতর্ক করার চেষ্টা করছেন।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ অনেক সচেতন হয়ে গেছে। তারা আর কোনো ষড়যন্ত্র বা বিদেশি প্রভাব মেনে নেবে না। জনগণই তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রমাণ করবে, কারা এই দেশের ক্ষমতায় থাকার যোগ্য।”

এমন মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, আসন্ন নির্বাচনে সত্যিই কি জাতীয় পার্টি ভারতের কৌশলের অংশ হয়ে উঠতে যাচ্ছে? নাকি এটি কেবল বিরোধী দলের আরেকটি রাজনৈতিক বক্তব্য? তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, এই মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে এবং আগামী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

No comments found


News Card Generator