বাংলাদেশের কারাতে অঙ্গনের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ, অভিজ্ঞ রেফারি ও প্রশিক্ষক আব্দুল হান্নান কাজল গত শনিবার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে তার দীর্ঘ ৩৭ বছরের বর্ণিল ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কারাতে রেফারিং এবং কোচিংয়ের সাথে যুক্ত থাকা এই ব্যক্তিত্ব হঠাৎ করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্রীড়া মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, কারাতে ফেডারেশনের বর্তমান কমিটির সভাপতি শাহজাদা আলমের প্রতি ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ না থাকলেও, ফেডারেশনের অন্যান্য সদস্য এবং রেফারি কমিটির কিছু কর্মকর্তার উদ্দেশ্যমূলক কর্মকাণ্ড তার মানসিক প্রশান্তি নষ্ট করেছে। দীর্ঘ ৩৭ বছরের এই পথচলা শেষে তিনি এখন থেকে পেশাদার ফটো সাংবাদিকতায় মনোনিবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা তার জীবনের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে তিনি মনে করছেন। এই আকস্মিক পদত্যাগ ক্রীড়াঙ্গনে তার দীর্ঘ অবদানের পাশাপাশি বর্তমান ক্রীড়া প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সংকটের একটি প্রতিচ্ছবি হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
আব্দুল হান্নান কাজলের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ফেডারেশনের ভেতরের গভীর অব্যবস্থাপনা এবং কর্মকর্তাদের অসহযোগিতামূলক মনোভাব। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ফেডারেশনের রেফারি কমিটির কিছু কর্মকর্তার পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং কারাতে অঙ্গনের পরিবেশকে কলুষিত করার প্রচেষ্টা তাকে চরমভাবে হতাশ করেছে। কাজলের মতে, একজন নিষ্ঠাবান ক্রীড়াবিদ হিসেবে তিনি বছরের পর বছর ধরে যে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে গেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির সাথে তার কোনো সামঞ্জস্য নেই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কোনো ধরনের অনৈতিক চাপের মুখে আপস করার চেয়ে পেশা পরিবর্তন করা অনেক বেশি সম্মানজনক। তার এই ক্ষোভ মূলত ফেডারেশনের প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে থাকা স্বেচ্ছাচারিতার দিকে ইঙ্গিত করে, যা একজন অভিজ্ঞ কোচের মতো মানুষকেও দীর্ঘদিনের প্রিয় খেলা থেকে বিমুখ করতে বাধ্য করেছে। ভুক্তভোগী হিসেবে তার এই বক্তব্য কারাতে ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতার অভাবকেই পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফেডারেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে নীরবতা পালন করায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের উদয় হচ্ছে। ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক মহলের মতে, আব্দুল হান্নান কাজলের মতো একজন অভিজ্ঞ কোচের এভাবে সরে দাঁড়ানো দেশের কারাতে উন্নয়নের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। ফেডারেশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উচিত ছিল এমন একজন দক্ষ কারিগরের অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে অভ্যন্তরীণ পরিবেশ উন্নত করা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ বা তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ না করায় ফেডারেশনের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারাতে ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ এই অস্থিরতা নিরসনে এবং দক্ষ কোচদের ধরে রাখতে হলে দ্রুত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
আব্দুল হান্নান কাজলের বিদায় কেবলমাত্র একজন ব্যক্তির প্রস্থান নয়, বরং এটি দেশের কারাতে ফেডারেশনের প্রশাসনিক ব্যর্থতার একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তার মতো একজন অভিজ্ঞ মানুষের চলে যাওয়া নতুন প্রজন্মের কারাতে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করবে। ভবিষ্যতে ফটো সাংবাদিকতায় নতুন ক্যারিয়ার শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও, তার এই চলে যাওয়ার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারাতে ফেডারেশন যদি তাদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও অযোগ্য কর্মকর্তাদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ ও কোচ এমন হতাশা থেকে খেলা ছাড়ার পথ বেছে নিতে পারেন। বাংলাদেশের সামগ্রিক ক্রীড়া খাতে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং দক্ষ জনবল ধরে রাখতে এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত ও সমাধান হওয়া এখন সময়ের দাবি।
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।