সাতক্ষীরায় এসএসসিতে চার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পাস করতে ব্যর্থ..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: avatar   
সাতক্ষীরায় এসএসসিতে চার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পাস করতে ব্যর্থ..
সাতক্ষীরায় এসএসসিতে চার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পাস করতে ব্যর্থ..
ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এসএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি, যা শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থাকে তুলে ধরেছে..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরায় এসএসসি পরীক্ষায় চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, আশাশুনি উপজেলার গোদাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা সদরের নৈশ বিদ্যালয়, দেবহাটা উপজেলার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয় এবং শ্যামনগরের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয় থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট '২৬) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

আশাশুনি গোদাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেবুন্নেছা জানান, মানবিক বিভাগ থেকে চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, কিন্তু কেউই পাস করতে পারেনি। এদিকে, দেবহাটার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নূর হোসেন জানান, বিদ্যালয়টির শিক্ষকরা ২০০১ সাল থেকে কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না, ফলে তারা নিয়মিত স্কুলে আসেন না।

সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান জানিয়েছেন, ফলাফলের সঠিক তথ্য তার জানা নেই এবং বোর্ড ও অনলাইন কেন্দ্রীক নথি দেখে বিস্তারিত জানাতে পারবেন। অন্যদিকে, শ্যামনগরের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ফোনে পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবুল খায়ের জানান, যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফলাফলের বিস্তারিত পাঠানো হচ্ছে এবং যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পাস করতে পারেনি সেগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান চলবে।

এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ছিল ৬২.২৫ শতাংশ। সারাদেশে ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে এই বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন। এই ফলাফল দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা ও প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনার দিকে ইঙ্গিত দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের উন্নত ফলাফল নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো ও শিক্ষকদের সুবিধা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

এই ধরনের ফলাফল শুধু শিক্ষার্থীদের হতাশায় ফেলে দেয় না, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতাও তৈরি করে। সমাধান খুঁজে বের করে এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

没有找到评论


News Card Generator