শান্ত'র রেকর্ডের দিনে বাংলাদেশ - শ্রীলঙ্কা ম্যাচ ড্র

রেজাউন নবী  avatar   
রেজাউন নবী
শান্ত'র রেকর্ডের দিনে বাংলাদেশ - শ্রীলঙ্কা ম্যাচ ড্র
শান্ত'র রেকর্ডের দিনে বাংলাদেশ - শ্রীলঙ্কা ম্যাচ ড্র
ছবি: সংগৃহীত

শেষ দিনে যখন গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বৃষ্টি নামে, তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিল ম্যাচটি বোধহয় ড্রয়ের দিকেই যাচ্ছে। হলোও তাই। ম্যাচের শেষ দিনে ৫ ওভার বাকি থাকতেই দুই দলই ড্র মেনে নেয়।..

২৯৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে ৭২ রান করতেই ড্র মেনে নেয়। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। গলের ঘূর্ণি পিচে মাত্র ৬.২ ওভারেই ৩৪ রানে পড়ে যায় তাদের ২ উইকেট। তখনই বাংলাদেশের আশায় একটু আলো দেখা গিয়েছিল।

লাহিরু উদারা ৯ ও পাথুম নিসাঙ্কা করেন ২৪ রান। এরপরই প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় রক্ষণাত্মক ভঙ্গিমায় ব্যাট করতে থাকেন লঙ্কান ব্যাটাররা। তবে বিদায়ী টেস্ট খেলতে নামা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে ৮ রানে ও দিনেশ চান্দিমালকে ৬ রানে ফিরিয়ে কিছুটা চাপ তৈরি করেন বাংলাদেশের বোলাররা।

শেষ পর্যন্ত কামিন্দু মেন্ডিস ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা অপরাজিত থাকেন যথাক্রমে ১২ করে রান নিয়ে। আর তাতেই নিশ্চিত হয় বিরল এক ড্র। গলে এর আগে খেলা ২৬টি টেস্টেই ফলাফল এসেছিল। কিন্তু এই ম্যাচেই সেই ধারার ইতি টানলো বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। বিস্ময়কর হলেও সত্য, গলে আগের সর্বশেষ ড্রটিও ছিল এই দুই দলের মধ্যেই।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ২৮৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। এই ইনিংসে ভীত গড়ে দেন ওপেনার সাদমান ইসলাম, যিনি খেলেন ৭৬ রানের একটি ধীরস্থির ইনিংস। এরপর নেতৃত্বের আসনে নিজের জাত চেনান নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে ১৪৮ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১২৫ রানের ইনিংস খেলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টানা দুই টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন তিনি।

এর আগে ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টেও দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন শান্ত। বাংলাদেশের হয়ে একই টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি আছে আরেকজনের—মুমিনুল হকের। ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনি করেছিলেন ১৭৬ ও ১০৬*।

শান্তর পরে মুশফিকুর রহিমও খেলেন দারুণ ইনিংস, তবে হাফসেঞ্চুরির এক রান আগে ৪৯ রানে থামেন। মুমিনুল হক (১৪), এনামুল হক (৪), লিটন দাস (৩) ও জাকের আলী (২) রান করে ব্যর্থ হন।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪৯৫ রান। সেঞ্চুরি করেন শান্ত (১৪৮) ও মুশফিক (১৬৩)। শ্রীলঙ্কার হয়ে থারিন্দু রাতনায়াকে ৩টি উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ৪৮৫ রানেই অলআউট হয়ে যায়। ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা একপ্রান্ত আগলে ১৮৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। তবে বাংলাদেশি স্পিনার নাঈম হাসান ৪৫ ওভারে ১২১ রান খরচায় তুলে নেন ৫ উইকেট।

শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির বাধা আর শ্রীলঙ্কার রক্ষণাত্মক ব্যাটিং মিলিয়ে ড্রতেই শেষ হয় ম্যাচ। তবে ইতিহাস গড়েই গল ছাড়ে দুই দল—কারণ এই মাঠে ২৬ ম্যাচ পর প্রথমবার কোনো ম্যাচে দেখা গেল না ফলাফল।

没有找到评论


News Card Generator