নেত্রকোনার পূর্বধলায় রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দুই যুবক গুরুতর আহত..

Md MR Uzzal avatar   
Md MR Uzzal
নেত্রকোনার পূর্বধলায় রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দুই যুবক গুরুতর আহত..
নেত্রকোনার পূর্বধলায় রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দুই যুবক গুরুতর আহত..
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার পূর্বধলায় অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় হৃদয় ও কাইয়ুম নামে দুই যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।..

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের বাড়হা চৌরাস্তা রেলক্রসিংয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেললাইন অতিক্রম করার সময় ট্রেনের ধাক্কায় হৃদয় (২৫) ও কাইয়ুম (২৬) নামের দুই যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক সাতটা ৫০ মিনিট থেকে আটটা ১০ মিনিটের মধ্যবর্তী সময়ে তারা মোটরসাইকেলযোগে রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় জারিয়াগামী ট্রেনটি দ্রুতগতিতে অতিক্রম করার সময় তাদের ধাক্কা দেয়, যার ফলে তারা দুজনেই ছিটকে পড়েন এবং মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হন। ঘটনার আকস্মিকতায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রেলক্রসিংটি পার হওয়ার সময় অসাবধানতা এবং পর্যাপ্ত সতর্ক সংকেতের অভাব এ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আহত দুই যুবক মেঘশিমুল ইজারাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় তাদের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই আহত অবস্থায় দুই যুবককে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তাদের উদ্ধার করে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করলেও আঘাতের গভীরতা এবং মাথার গুরুতর জখম দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। ভুক্তভোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, বাড়হা চৌরাস্তা রেলক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এখানে কোনো গেটম্যান না থাকায় কিংবা ট্রেন আসার সংকেত ঠিকমতো না পাওয়ায় প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। আহতদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক এবং তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, যেখানে সামান্য অসাবধানতায় দুটি তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, প্রতিটি রেলক্রসিংয়ে গেটম্যানের উপস্থিতি এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি দায়িত্ব। বাড়হা রেলক্রসিংয়ে কেন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হলেও, বছরের পর বছর ধরে চলা এমন অবহেলার কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াত চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাস মালিক সমিতি বা স্থানীয় পরিবহন সংগঠনের পক্ষ থেকেও এ ধরনের অরক্ষিত পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে সতর্কবার্তার দাবি জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে এই রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগ করা এবং ট্রেন চলাচলের সময় পর্যাপ্ত সংকেত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জোরালো হচ্ছে।

উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, প্রতিটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিবহন খাতের এই নিরাপত্তা ঘাটতি দূর করা না গেলে সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকি কোনোভাবেই কমানো সম্ভব নয়। রেলওয়ে বিভাগের উদাসীনতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাব যদি অব্যাহত থাকে, তবে এ ধরনের দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হতে পারে। একটি আধুনিক ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে প্রতিটি রেলক্রসিংকে ঝুঁকিমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। আহত দুই যুবকের দ্রুত আরোগ্য কামনার পাশাপাশি এলাকাবাসী এখন ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা জনজীবনে এক প্রকার অনিশ্চয়তা ও ভীতির সৃষ্টি করেছে।

לא נמצאו הערות


News Card Generator