কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ সমুদ্রসৈকত এলাকায় প্লাস্টিক দূষণ রোধে একটি সচেতনতা র্যালি, আলোচনা সভা এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং টেকসই প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহারকে উৎসাহিত করা।
১৪ আগস্ট, শুক্রবার সকাল ১১ টায় এই কর্মসূচি শুরু হয়। বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের 'Integrated Approach Towards Sustainable Plastics Use and Marine Litter Prevention in Bangladesh' প্রকল্পের আওতায় জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (UNIDO)-এর কারিগরি সহায়তা এবং নরওয়ে দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়। এছাড়া, কুতুবদিয়া দ্বীপ সুরক্ষা আন্দোলন (কেডিএস)-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, মৎস্যজীবি, নৌকার মালিক ও মাঝি, প্রান্তিক চাষি, স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং যুব স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে একটি সচেতনতা র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলা, বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং পুনর্ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তা পেশ করা হয়।
পরে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ এবং উপকূলীয় পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। UNIDO বাংলাদেশ-এর ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট মো. সহিদুল ইসলাম সিয়াম বলেন, কুতুবদিয়ার মতো উপকূলীয় এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষা শুধু একটি অভিযান নয়; এটি মানুষের সচেতনতা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় অংশগ্রহণের সঙ্গে জড়িত।
কুতুবদিয়া দ্বীপ সুরক্ষা আন্দোলন (কেডিএস)-এর সভাপতি এম. শহীদুল ইসলাম বলেন, কুতুবদিয়া আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটিকে পরিচ্ছন্ন ও প্লাস্টিক দূষণমুক্ত রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।
বিডি ক্লিন কক্সবাজার জেলা সমন্বয়ক মো. সৈয়দ করিম বলেন, কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিনের জমে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণে এ ধরনের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। তিনি সকলকে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্বের প্রতি সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভার শেষে, সকল অংশগ্রহণকারী সম্মিলিতভাবে কুতুবদিয়াকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত করার অঙ্গীকার গ্রহণ করেন। এই অঙ্গীকারে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলা, বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বিডি ক্লিন, কুতুবদিয়া দ্বীপ সুরক্ষা আন্দোলন এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের অংশগ্রহণে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে।