শুক্রবার (১৬ মে) সকালে নালিতাবাড়ীর পোড়াগাও ইউনিয়নের উত্তর কাটাবাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করা হয়।স্থানীয়রা জানায়, সজারু ছানাটি তার মায়ের সঙ্গে খাদ্যের সন্ধানে এসেছিল। এসময় এলাকার কিছু কুকুরের তাড়া খেয়ে ছানাটি আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দা ক্লিন ম্রংয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ক্লিন ম্রং সজারু ছানাটিকে সযত্নে খাওয়ান ও লালন-পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় বিট কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেন।
বাতকুচি বিট কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এবং মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. দেওয়ান আলীর নেতৃত্বে একটি দল ছানাটিকে উদ্ধার করে। পরে বন বিভাগের উদ্যোগে ছানাটি নিরাপদভাবে প্রাকৃতিক আবাসে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বন্যপ্রাণী অধিকার কর্মী আসিফুজ্জামান পৃথিল বলেন, ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি প্রজাতিটি দেশি সজারু (Indian Crested Porcupine)।এবং বনে খাবার সংকট তাই খাবারের খোঁজে প্রাণীটি লোকালয়ে এসেছিল। সজারু বৃহৎ ইঁদুরজাতীয় নিশাচর প্রাণী। এরা মাটিতে গর্ত খুঁড়ে বাসস্থান বানায়। তৃণভোজী জীব হিসেবে প্রাণীটি ঘাস, লতা-পাতা, ফলমূল, শস্যদানা ইত্যাদি খেয়ে জীবনধারণ করে। এরা সাধারণত আড়াই বছরে পূর্ণ বয়স্ক হয় এবং বছরে এক থেকে চারটি বাচ্চা দেয়। পূর্ণ বয়স্ক একটি সজারু ১০ থেকে ১২ কেজি ওজন হয় এবং ১৮ থেকে ২০ বছর বাঁচে। বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত। তাই এটি শিকার, হত্যা বা এর কোনো ক্ষতিকরা দণ্ডনীয় অপরাধ।
মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. দেওয়ান আলী বলেন, আমরা প্রাণীটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ বনে অবমুক্ত করেছি।
লোকালয় থেকে সজারু উদ্ধার, নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক বনে অবমুক্ত.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও
লোকালয় থেকে সজারু উদ্ধার, নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক বনে অবমুক্ত..
ছবি: সংগৃহীত
কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি