নোবিপ্রবির জমি পুনরুদ্ধারে আইনগত বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল | আই নিউজ বিডি

নোবিপ্রবির জমি পুনরুদ্ধারে আইনগত বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল..

en_59a8cd4 avatar   
en_59a8cd4
নোবিপ্রবির জমি পুনরুদ্ধারে আইনগত বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল..
নোবিপ্রবির জমি পুনরুদ্ধারে আইনগত বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল..
ছবি: সংগৃহীত
****

 

 

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নামে অধিগ্রহণ করা ১০০ একর জমির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা ১ দশমিক ৩৩ একর জমি পুনরুদ্ধারের পথ খুলেছে। জমিটি উদ্ধার এবং সেখানে গড়ে ওঠা অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে মতামত দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেওয়া তাঁর আইনগত মতামতে জমির দখল বিশ্ববিদ্যালয়কে বুঝিয়ে দেওয়া এবং সেখানে ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্মাণকাজ শুরুর ক্ষেত্রেও কোনো বাধা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত অনুযায়ী, নোবিপ্রবি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ২০০৩-০৪ অর্থবছরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ মামলা নম্বর ০২-এর আওতায় নোয়াখালী সদর উপজেলায় মোট ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে চর সল্লা মৌজায় ৪৯ দশমিক ৮২ একর এবং নোয়াখালী মৌজায় ৫০ দশমিক ১৮ একর জমি রয়েছে। চর সল্লা মৌজার ৭৬ নম্বর দাগের ১ দশমিক ৮২ একর জমির মধ্য থেকে ১ দশমিক ৩৩ একর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।

 

মতামতে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের ৫ মার্চ অধিগ্রহণ করা জমির দখল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ গেজেটে এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়। তবে অধিগ্রহণের পরও ১০০ একর জমির অন্তর্ভুক্ত ওই ১ দশমিক ৩৩ একর জমি এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাস্তব দখলে আসেনি।

 

জানা যায়, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আলী কবির ওরফে আব্দুস সাত্তারসহ কয়েকজন ২০১৮ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর ১০৩৪৭/২০১৮ দায়ের করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুল জারির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তবে ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দেন এবং পূর্বের স্থিতাবস্থার আদেশ প্রত্যাহার করেন।

 

পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদনকারীরা আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নম্বর ৩২১১/২০২২ দায়ের করেন। এ আবেদন এখনো বিচারাধীন থাকলেও সংশ্লিষ্ট জমির ওপর কোনো স্থগিতাদেশ কিংবা স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ কার্যকর নেই বলে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন বিচারাধীন থাকার কারণে জমির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠা বা তা ভোগের ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি হয় না বলেও মতামতে বলা হয়েছে।

 

আইনগত মতামতে আরও বলা হয়, যথাযথ প্রক্রিয়ায় অধিগ্রহণের মাধ্যমে জমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। তাই জমিতে থাকা অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জমির দখল হস্তান্তর এবং সেখানে ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্মাণকাজ ও কার্যক্রম শুরু করতে বর্তমানে কোনো আইনগত জটিলতা নেই।

 

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের জন্য ওই জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অর্থায়নে নেওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ১৮ মাস। এর মধ্যে আট মাস ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত জমির সংকট থাকায় এ প্রতিষ্ঠানের জন্য বিকল্প জমি নির্ধারণ করাও বাস্তবসম্মত নয় বলে মতামতে উঠে এসেছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোসাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামীকাল ৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় নির্ধারিত স্থানে ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. শাহজাহান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কর্মকর্তা আশীষ শীল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির বিরুদ্ধে আব্দুস সাত্তারসহ অন্যরা রিট করেছিলেন। তবে সেই রিটের রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে এসেছে। জমির ওপর বর্তমানে কোনো স্থিতাবস্থার আদেশ বলবৎ নেই।’

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট জমির ওপর বর্তমানে কোনো স্থিতাবস্থার আদেশ বলবৎ নেই। দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে তাঁর আইনগত মতামত দিয়েছেন। ফলে এখানে কোনো আইনগত জটিলতা নেই। আমরা আগামীকাল প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব।

نظری یافت نشد


News Card Generator