আমতলীতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি | আই নিউজ বিডি

আমতলীতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি 

ফরিদ হোসেন খিজির avatar   
ফরিদ হোসেন খিজির
আমতলীতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি 
আমতলীতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি 
ছবি: সংগৃহীত
****

বরগুনার আমতলী পৌরশহরসহ  গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে নকল সিগারেট ও কোম্পানী নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে  বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মোড়ক নকল করে তৈরি সিগারেট বাজারজাত করার কারণে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।বিট্রিশ আমেরিকান ট্যোবাকোর আমতলী পয়েন্টের সুপারভাইজার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন বেনসন ১ শলাকা ২৩ টাকা,গোল্ডলিফ ১ শলাকা ১৮ টাকা,লাকি ১ শলাকা ১২ টাকা,হলিউড ১ শলাকা ৮ টাকা, স্টার ১ শলাকা ১০ টাকা,রয়েল ১ শলাকা ১০ টাকা কোম্পানীর রেট অনুযায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি করার কথা। 
কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা  বনসন ১ শলাকা ২৫ টাকা,গোল্ডলিফ ১ শলাকা ২০ টাকা,লাকি ১ শলাকা ১৫ টাকা,হলিউড ১ শলাকা ১০টাকা, স্টার ১ শলাকা ১০ টাকা,রয়েল ১ শলাকা ১০ টাকায় বিক্রি করেন।এছাড়া  বাজারে নকল সিগারেটে সয়লাব গ্রামগঞ্জ হাট বাজার বিশেষ করে বেনসন অ্যান্ড হেজেস ব্র্যান্ডসহ পরিচিত কয়েকটি ব্র্যান্ডের আদলে তৈরি সিগারেট বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করা এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট চক্র জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সিগারেটের প্যাকেটের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে নকল পণ্য বাজারজাত করছে। দোকানীরা এস সিগারেট কমদামে কিনে  কোম্পানী নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রয় করেন। প্যাকেটের বাহ্যিক চেহারা আসল পণ্যের মতো হওয়ায় অনেক ক্রেতার পক্ষে সহজে নকল সিগারেট শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে অনেকে না বুঝেই নিম্নমানের বা অননুমোদিত পণ্য কিনছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে,নকল সিগারেটের উৎপাদন,সরবরাহ ও বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এর প্রভাব শুধু ক্রেতাদের আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; জনস্বাস্থ্য ও দেশের রাজস্ব ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সিগারেটের প্রকৃত উপাদান, উৎপাদনের মান এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না গেলে ভোক্তাদের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
তামাকজাত পণ্য এমনিতেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর ওপর কোনো সিগারেটের উৎপাদন, উপাদান ও মান সম্পর্কে নির্ভর যোগ্য তথ্য না থাকলে ভোক্তাদের জন্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নকল পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতাও বাড়ানো প্রয়োজন। অবৈধভাবে উৎপাদিত বা কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা সিগারেট বিক্রি হলে সরকার প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তবে আমতলীতে নকল সিগারেটের প্রকৃত পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর সংখ্যা এবং রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
নকল সিগারেটের বিস্তার ঠেকাতে বাজারগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, পণ্যের বৈধতা যাচাই এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা
এ বিষয়  আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট) রনজিৎ চন্দ্র দাস বলেন, ভোক্তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নিলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator