বরগুনায় চার দশকের ভোগান্তির অবসান: বেড়িবাঁধ সংস্কারে সুরক্ষিত হচ্ছে… | আই নিউজ বিডি

বরগুনায় চার দশকের ভোগান্তির অবসান: বেড়িবাঁধ সংস্কারে সুরক্ষিত হচ্ছে তিন গ্রামের জনপদ..

md Naeymul islam Meraj avatar   
md Naeymul islam Meraj
বরগুনায় চার দশকের ভোগান্তির অবসান: বেড়িবাঁধ সংস্কারে সুরক্ষিত হচ্ছে তিন গ্রামের জনপদ..
বরগুনায় চার দশকের ভোগান্তির অবসান: বেড়িবাঁধ সংস্কারে সুরক্ষিত হচ্ছে তিন গ্রামের জনপদ..
ছবি: সংগৃহীত
বরগুনার মনসাতলী, রক্ষাচণ্ডী ও খোন্তাকাটা গ্রামে দীর্ঘ চার দশক ধরে অবহেলিত বেড়িবাঁধের সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে, যা স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্যোগের ঝুঁকি লাঘবে নতুন আশার সঞ..

বরগুনা জেলার মনসাতলী, রক্ষাচণ্ডী ও খোন্তাকাটা গ্রামের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হয়েছে জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ উঁচু ও প্রশস্তকরণের নির্মাণকাজ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জোয়ারের পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং নদীভাঙনের তীব্র আতঙ্কে গত চার দশক ধরে এখানকার বাসিন্দারা যে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছিলেন, তা নিরসনে এই উন্নয়ন প্রকল্পটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মূলত উপকূলীয় অঞ্চলের এই জনপদগুলোতে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেড়িবাঁধগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল, যার ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো স্থানীয়দের। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে চলমান এই সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে বাঁধের উচ্চতা ও প্রস্থ বৃদ্ধির পাশাপাশি এর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে, যা এই অঞ্চলের ভৌগোলিক সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় চল্লিশ বছর ধরে এই বেড়িবাঁধটি সংস্কারের অভাবে অনেকটা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছিল, যার ফলে স্থানীয় জীবনযাত্রা ও অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সামান্য জোয়ারের পানিতেই বাঁধ ছাপিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় তাদের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ত এবং ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গবাদি পশু ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হতো। অনেক পরিবার এই ভাঙন আতঙ্কে নিজেদের ভিটেমাটি হারানোর ভয়ে সবসময় উদ্বিগ্ন থাকতেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, উন্নয়নবঞ্চনার শিকার এই এলাকাগুলোতে বারবার আবেদন করেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যার ফলে তারা বছরের পর বছর ধরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে চলমান কাজ তাদের জন্য কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে একটি বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে বলে তারা মনে করছেন।

এই উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা এখন জনমনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ এমপির ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই অবহেলিত জনপদে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগায় স্থানীয়রা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়রা কেবল সংস্কারকাজ নয়, বরং ভবিষ্যতে এই বাঁধের স্থায়িত্ব বজায় রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির ওপরও জোর দিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে হলে টেকসই নির্মাণশৈলী নিশ্চিত করা এখন সময়ের প্রধান দাবি।

পরিশেষে বলা যায়, মনসাতলী, রক্ষাচণ্ডী ও খোন্তাকাটা গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই সংস্কার প্রকল্পটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে পরিগণিত হবে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কাটিয়ে একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত জনপদে বসবাসের স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হবে। প্রকল্পটির সফল সমাপ্তি কেবল স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগই কমাবে না, বরং ভবিষ্যতে বরগুনা অঞ্চলের পরিবহন ও কৃষি খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। যথাযথ মান বজায় রেখে কাজটি সম্পন্ন হলে এটি উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ব্যবস্থাপনায় একটি মডেল হিসেবে গণ্য হবে, যা দীর্ঘদিনের অবহেলিত জনপদগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

No comments found


News Card Generator